Saturday, 27 February 2021
রামায়ণের গল্প ৪
Saturday, 13 February 2021
রামায়ণের গল্প ৩
দশরথের বাপ হওয়ার গল্পটা সকলেরই জানা। তার তুলনায় বংশের ওপেনার সূর্যের নাতির নাতি যুবনাশ্বের কেচ্ছা সেভাবে কিন্তু বাজারে রটেনি। পরের বংশধরদের বদনাম থেকে বাঁচাতেই হয়তো তাতে ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়। নইলে জনকরাজ তো দূরে থাক, কোশলরাজই সখ করে আর এই বংশে মেয়ের বিয়ে দিতো না।
করেছিলটা কি যুবনাশ্ব? আসলে করলেই ল্যাটা চুকে যেত। না করাতেই যত কেলেঙ্কারি। ঘটনাটা শুরু থেকে বলি -
অযোধ্যার রাজা হওয়ার পর প্রসন্নের বেটা যুবনাশ্ব কন্দকরাজার কন্যা কালনিমিকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ে করেই রাজা খালাস। বিছানা নিলেই রাজার ঘুম পেয়ে যায়, আর বেচারি রানি জ্বলে-পুড়ে মরে। অবশেষে আর থাকতে না পেরে লজ্জার মাথা খেয়ে বাবাকে অক্ষম জামাইয়ের অকামবৃত্তির কথা জানিয়ে ফেলে কালনিমি। শুনে প্রেস্টিজে লাগে কন্দকের। মেজাজ খুইয়ে অভিশাপ দিয়ে বসেন জামাইকে।
এদিকে অগাচণ্ডী যুবনাশ্ব বাবা বনতে এক পায়ে খাঁড়া। গুণধরের ইচ্ছে তপস্যা করে সন্তান লাভ করবে। মুনিঋষিরাও খোরাক করতে কিছু কম যায় না। তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে "কি চাও বৎস"-র উত্তরে "বাবা হতে চাই" শুনে প্রথমে তারা মিটিমিটি করে হাসে, দিয়ে হেঁয়ালি করে বলে, স্ত্রীকে সঙ্গে না আনলে আশীর্বাদ দিই কি করে!
শেষমেশ যজ্ঞ করার উপদেশ পায় যুবনাশ্ব। যজ্ঞের জল স্ত্রীকে খাওয়ালে নাকি সন্তান পাক্কা। রাত পর্যন্ত যজ্ঞ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে যুবনাশ্ব। শেষে যজ্ঞের জল মাথার কাছে রেখেই ঘুমিয়ে পড়ে সে। মাঝরাতে জলতেষ্টায় পড়লে তাড়াহুড়োর চোটে যজ্ঞের জল দু ঢোঁক খেয়ে ফেলে।
এবার অভিশাপ ফলবার পালা। যুবনাশ্বের পেট ফুলে ঢোল। সংবাদের শিরোনাম হলে হতো - শ্বশুর করলো জামাইকে পোয়াতি। দশ মাস পর পেটের বাঁদিক ফুঁড়ে বেরিয়ে এল এক পুত্র। যন্ত্রণায় মারা গেলেন রাজা। ব্রহ্মা সদ্যোজাতের নাম রাখলো মান্ধাতা।
সত্যযুগে যত্তোসব, খালি বদনামের বেলায় 'ঘোর কলি'।