বিশ্বাস করুন নারানের বাই না চাপলে রামায়ণ হতোই না। কাম-ধান্দা নেই একদিন দুম করে শ্রীরামচন্দ্র সেজে বৈকুণ্ঠে বসে আছে। লক্ষ্মীকে বসিয়েছে সীতা সাজিয়ে। একজনকে সোনার ছাতা ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে - সে নিশ্চয়ই লক্ষ্মণ। দুজন ফ্যান ঘুরাচ্ছে - ভরত-শত্রুঘ্ন হবে আর কি। আর একটা হনুমুখো হাত জোড় করে পায়ের কাছে বসে আছে...হনুমানই হবে। এদিকে নারদ শো দেখেই কাৎ। কেঁদে কেটে একাকার। গুরু কি সিন দেখালে মাইরি! নারদের আবার সবকিছু পাঁচকান না করলে পেটে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। প্রথমে খবরটা পাড়ে বাপ ব্রহ্মার[১] কাছে। তারপর বাপ-বেটা মিলে পৌছায় শিবের কাছে। প্ল্যান হয় এর ওপর ইহলোকে ফিলিম হোক। কিন্তু তার আগে তো স্ক্রিপ্ট চাই। লিখবে কে? কম খরচে ছোট্টর মধ্যে নামাতে পারবে এরকম লোক চাই। বেদো আর গণশাকে দিয়ে লেখালে বিশাল হ্যাপা হবে, তাই তারা বাদ।
সুপারিশটা আসে শিবের কাছ থেকে। নারদের ভাই মহর্ষি ভৃগুর নাতিটা আজকাল দস্যুবৃত্তি করে বেড়ায়। করবে নাই বা কেন! তার বুড়ো বাপটা যে অশ্বিনীকুমারদের চ্যবন প্রাশ খেয়ে হারানো যৌবন ফিরে পেয়েছে। সারাদিন বৌয়ের সাথে প্রেমপিরীতেই ব্যস্ত। আর এদিকে ছেলে বিগড়ে হুলো বেড়াল। যতই হোক, বংশেরই ছেলে। তাই নারদ আর ব্রহ্মা মিলে ঠিক করে এই চোরকেই ঘষেমেজে সাধু বানাতে হবে। দুর্বৃত্ত রত্নাকরকে মহর্ষি বাল্মীকি বানাতে হবে।
____________________
[১]পৌরাণিক মতে ব্রহ্মা দশটি মানসপুত্রের জন্ম দেয়, যাদেরকে বলা হতো প্রজাপতি। মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত, পুলহ, ক্রতুজ, বশিষ্ঠ, দক্ষ, ভৃগু ও নারদ - এই প্রজাপতিরাই মানবজাতির আদিপিতা। নারদ এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। ভৃগু নাতির দৌলতে খ্যাত, দক্ষ খ্যাত নিজের যজ্ঞের জন্য (যেখানে শিব আর সতী নেমন্তন্ন পাননি)। আর এই শেষ তিন প্রজাপতিকে বাদ দিয়ে বাকি সাতজন একসাথে সপ্তর্ষি নামে পরিচিত।