Wednesday, 30 August 2017

২০১৭, ২৫ আগস্ট

কি পাঁচকুলা কি সোফিয়ান ! কামিম্পং থেকে পেরাম্বুর !

আমার এক আওয়ারা আশিক কমরেড বন্ধু এক সময় বলেছিল, একবার কাশ্মীরের মানুষগুলোর দিকে চেয়ে দেখতে । কি অসহ্য তকলিফে তাদের দিন গুজরান হয় । সহ্যের সীমা না ছাড়ালে কি তারা রাস্তায় নামে !

তাই আজ কি জানি হঠাৎ খেয়াল হল, নাকি আওয়ারা আশিক কমরেড বন্ধুকে মনে পড়ল, তাই কাশ্মীরের ছবিগুলো দেখছিলাম । মানুষজন রাস্তায় নেমে এসেছে । প্রতিরোধে পুলিশ-সেনা-স্পেশাল ফোর্স । একপক্ষ পাথর ছুঁড়ছে, অপরপক্ষ কাঁদানে গ্যাস । যাতা কাণ্ড !

পরে জানলাম, ছিঃ ছিঃ, দেখুন আমিও কত মূর্খ, সেই ছবিগুলো আদৌ কাশ্মীরের নয় । কোন একজন গুরমিত রাম রহিম সিংহের সাজা হওয়ায় প্রতিবাদে তার অনুগামীরা পঞ্জাব হরিয়ানার বিভিন্ন শহরে হিংস্র বর্বরতায় নেমে এসেছে ।

দেখছি, আমার 'আওয়ারা আশিক কমরেড বন্ধু'র কাছে মানুষ চেনার আর্টটা শিখে নিতে হবে । নইলে কারা কাশ্মীরি আর কারাই বা জাঠ বোঝা দায় হয়ে উঠবে ।

২০১৭, ২৭ আগস্ট

জড়বুদ্ধিসম্পন্ন অন্ধভক্ত কাট-গোঁয়াররাও লজ্জা পায়, যখন দেখে তাদের চেয়ে বেশি নিন্দুকেরা বাবা রাম-রহিমের নাম জপ করছে ।

২০১৭, ২২ আগস্ট

সেদিন দেখি, আমাদের নারানদা উত্তেজিত হয়ে জামা-প্যান্টের পকেট হাতড়াচ্ছে । সেই ফাঁকে তার অলক্ষ্যে একটি খুচরো কয়েন পকেট থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়ে যায় ।

লোকে বলছে নাকি এলেবেলে কয়েন না, সে 'বিশাল সিক্কা' !

২০১৭, ১৫ আগস্ট

হে ভারতভাগ্যবিধাতা,

আজকের এই দিনে তোমার কাছে একটাই প্রার্থনা । সেই সমস্ত বানচোত উদারচেতা দরাজকেতা জ্ঞানবর্তুল বীরপুঙ্গবদের হাত থেকে দেশের সরল সাধারণ নিরীহ মানুষদের রক্ষা করো । তারা অতশত তত্ত্ব বোঝে না । বোঝে না মহান কেতাদুরস্ত আদর্শের কচকচানি । উড়তে থাকা তেরঙার নীচে খুদাই খিদমতগার সেই মানুষগুলোর নিষ্পাপ আনন্দকে যারা হেয় তাচ্ছিল্য ব্যঙ্গবিদ্রূপ করে তাদের গুহ্যদ্বারে আছোলা বাঁশ গুঁজে দেওয়ার 'দাও শকতি' । সেই সব ভোঁতাভাষণ আঁতেলবশন ভাঁওতাবাজদের নির্মূল করার জন্য 'দাও বল' । যাতে আমার দেশের মানুষ গলা ছেড়ে নির্দ্বিধায় গায়তে পারে জনগণমন-অধিনায়ক গান ।

জয় হিন্দ

২০১৭, ৮ আগস্ট

পিকুর সাথে 'রোজা' সিনেমা দেখার সময় -

কাশ্মীরি সন্ত্রাসবাদী লিয়াকতের হুকুমে ভারতের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় । প্রাণের পরোয়া না করে জ্বলন্ত পতাকার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সিনেমার নায়ক ঋষি কুমার । যেভাবেই হোক সে তা রক্ষা করবেই । চরম মুহূর্ত...

ঘাড় ঘুরিয়ে পিকুকে জিজ্ঞেস করলাম, 'তুই থাকলে এরকম করতিস ?' মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো সে এবং ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলো 'কেন জানিস?' কেন'র কারণটা আমি মোটেই আশা করিনি । বলল...
'তুই এমনও কাওকে পাবি, যে ব্যাপারটাকে হেসে উড়িয়ে দেবে ; বলবে ন্যাকামো, ঢং, দেশভক্তির ভড়ং । ঠাট্টা-তামাশা দূরে থাক, হয়তো সিনেমাটা পাতেও নেবে না । এই তাদের মতো বীর-পুঙ্গবদের জানানোর জন্য যে আমার মতোও অনেকে আছে, যারা অতশত তত্ত্ব বোঝে না, বরঞ্চ সরল মনে দেশকে ভালোবাসে ।'

২০১৭, ৬ আগস্ট

মহান আমেরিকা বোমা মেরে যাবে

আমরা দিবসের পর দিবস ক্যালেন্ডার ভরিয়ে যাব
যতদিন না আমাদের নিজের একটা হিরোশিমা হয়...

২০১৭, ৫ আগস্ট

একটা দল বানান । মতের মিল, ভাবনা-চিন্তা এক ইত্যাদি ওসবের কিছু দরকার নেই । কন্ট্রাক্ট বেসিসে দল হবে । একে অপরের চামচা । এই ধরুন আপনি লেজটা নাড়লেন, বাকিদের কেও ডুগডুগি বা কেও ঝুনঝুনি বাজালো । কেও গলা ছাড়ল, 'কেয়া বাত, কেয়া বাত', 'নাজুক, নাজুক' । বাকিদের হাততালিই যথেষ্ট । এভাবেই চলবে - সার্কুলার প্রসেস ।

দেখবেন, চারিদিকে খালি মুগ্ধতা । রাতারাতি শিল্পী হয়ে উঠেছেন অথবা জননেতা । সংবর্ধনা ।

তবে হ্যাঁ, নিজের খাতের তালিটাও ভুলবেন না । কালচারটাকে সাসটেইন করতে হবে তো । হু হু, কালচারই তো । বনেদি-ফনেদি জুড়ে দিলে আরও বেটার ।

এভাবে প্রোটন-নিউট্রনে ঠাসা এক একটা নিউক্লিয়াস । গাদাগুচ্ছের নিউক্লিয়াস । ফিউশন-ফিশন চলবে । অ্যাটম বোমা ফাটবে ।

তালি কিন্তু চলতে থাকবে ।

প্রথম বনাম অস্ট্রেলিয়া

টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর একটা আলাদা মাধুর্য আছে - তা সে ৯০-র দশকের স্টিভ ওয়ার অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়াকেই হোক বা হালের স্টিভ স্মিথের অসহায়প্রায় অস্ট্রেলিয়াকে হোক - আমন্ত্রণ জানিয়ে ঘরে ডেকে হোক বা তা রক্ষা করতে গিয়েই হোক - তাতে কোনও পার্থক্য নেই । বরাবরের আত্মবিশ্বাস ও ঔদ্ধত্যে ভরপুর এই দলটিকে মাটিতে মুখ থুবড়ে ফেলার চরম ইচ্ছা প্রতিপক্ষ কোন দলেরই বা হবে না ?

আজ এশিয়া মহাদেশের চতুর্থ দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট ম্যাচে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ । সদ্য অনুমতিপ্রাপ্ত আফগানিস্থান এখনও তাদের টেস্ট খেলাই শুরু করেনি । তাই তাদের আপাতত ধর্তব্যের মধ্যে আনা হচ্ছে না ।

যাই হোক, অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে বাংলাদেশের ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হল (২০০০ সালে টেস্ট শিরোপা পাওয়ার পর) । ধন্য অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম । যদিও আজকের এই ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মাত্র ৪টি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে - দুটো অস্ট্রেলিয়ায় (২০০৩) এবং দুটো ঘরের মাঠে (২০০৫-০৬) । (এই ৪টে ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়া জয়লাভ করে) অর্থাৎ, সময়টা ১৭ বছর হলেও মাত্র ৫টা টেস্ট ম্যাচের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ জয় ছিনিয়ে নিতে সফল হয় ।

এখন অস্ট্রেলিয়াকে 'কত তাড়াতাড়ি টেস্ট ম্যাচে হারানোর' প্রসঙ্গে বাকি তিনটি প্রতিবেশী দেশের (ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা) তুলনা করলে আকর্ষণীয় কিছু তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায় । এবং আছেও তাই !

প্রথমে শ্রীলঙ্কার কথায় আসা যাক । বান্দুলা ওয়ার্নাপুরার অধিনায়কত্বে ১৯৮১-৮২ সাল নাগাদ টেস্ট খেলা শুরু করে ছোট্ট এই সমুদ্রবেষ্টিত দেশটি । গত বছর (২০১৬) অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের দাপটে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের (৩-০) মুখোমুখি হতে হলেও, এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে একবার মাত্রই শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয়ের ভাগীদার হতে হয়েছিল । সনৎ জয়সূর্যের দল ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট ম্যাচে পরাজিত করে এবং সেটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট জয় । মজার কথা, সেই সিরিজটি (৩ ম্যাচের সিরিজ, বাকি দুটি ড্র) শ্রীলঙ্কা জিতে যায় । তারপর এই ১৮ বছরে কেবলমাত্র ৩টি টেস্ট জয়ই শ্রীলঙ্কার ভাগ্যে জুটেছে । (এই পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা বনাম অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা ২৯) । অতএব, টেস্ট খেলতে শুরু করার ১৮টা বছর পর শ্রীলঙ্কা প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোনও টেস্ট ম্যাচ জেতে - ১৩ বার মুখোমুখি হওয়ার পর ।

তাহলে শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে ।

কোনোপ্রকার সাসপেন্সে না গিয়ে ভারতবর্ষের প্রসঙ্গে আসা যাক । এশিয়া মহাদেশের প্রথম ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ এবং বর্তমানে এক নম্বর টেস্ট দলেকে ২৭ বছর (যদিও সেই তুলনায় মাত্র ১০টি টেস্ট ম্যাচ) অপেক্ষা করতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার হারানোর জন্য । গুলাবরাই রামচন্দের নেতৃত্বে প্রথম জয়টি আসে (কানপুরে, ১৯৫৯) - সি কে নাইডুর পরাধীন ভারতবর্ষের ইংল্যান্ড সফরের (১৯৩২) ২৭ বছর পর । এর পরেও ভারত অস্ট্রেলিয়াকে বহুবার হারিয়েছে । তাদের দেশে গিয়ে হারিয়ে এসেছে ।

তবুও বাংলাদেশই এগিয়ে !

পাকিস্তান । কি আর বলবো ! প্রথম সাক্ষাতেই কেল্লাফতে । আবদুল হাফিজ কারদারের নেতৃত্বে ১৯৫২-তে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে হাতেখড়ি এই দেশটির আর তার ৪ বছরের মাথায় প্রথম টেস্টেই অস্ট্রেলিয়া মাত (১৯৫৬) । এমনকি সিরিজেও (৩ ম্যাচের সিরিজ ১-০) ।

শেষ হাসি কার ঘরে ?

দেখতে গেলে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পেতে পাকিস্তানকে ২০টি বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, যেখানে ভারতবর্ষ সেই একই পরিমান সময়ের ব্যবধানে খান ছয়েক জয়ের হাসি তো অবশ্যই হেসেছিল ।

Thursday, 24 August 2017

দ্বাদশ ব্যক্তি

আজ অলোক ভট্টাচার্যের জন্মদিন । কে এই অলোক ভট্টাচার্য, তাই তো ? 
এক কথায় উত্তরটি হবে ক্রিকেটার । আর নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে বাঙালি । কিন্তু এটুকুই যথেষ্ট নয় । তাহলে বিস্তারিত বলার আগে, একটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচের কথা বলি -

সালটা ১৯৮০ । ভারত সফরে এসেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান । ছয় ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি । সেটি অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায় । গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের অধিনায়কত্বে ভারত ইতিমধ্যে ২-০ তে এগিয়ে অর্থাৎ সিরিজ পকেটে । ইডেন গার্ডেনসে ব্যবধানটা আর একটু বাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে খেলতে নামছে কপিল, সুনীল, কিরমানিরা । অন্যদিকে ঘরে ফেরার আগে অন্তত একটি জয় ঝুলিতে পোরার আকাঙ্ক্ষায় বদ্ধপরিকর পাকিস্তান । চাইবে নাই বা কেন । সেই ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের অধিনায়ক আসিফ ইকবালের বিদায়ী টেস্ট ম্যাচ । ছয় নম্বর জায়গাটা ফাঁকা করে দেওয়া এবং অধিনায়কত্বের ব্যাটনটা জাভেদ মিয়াদাদের হাতে তুলে দেওয়ার আগে শেষ বারের মতো জ্বলে উঠতে চান দলের 'ড্যাসিং এন্ড হ্যান্ডসম' ডানহাতি ব্যাটসম্যানটি । 

যাই হোক । ম্যাচের শুরুতে ভারত টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং স্কোর বোর্ডে মোট ৩৩১ রান যোগ করে । পরেরদিন ফিল্ডিং করতে গিয়ে গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ দেখেন তার দলের স্লিপের স্থায়ী ফিল্ডার সুনীল গাভাসকারের মারাত্মক গলায় যন্ত্রণা । মাঠে নামতে পারবেন না । অনন্যোপায় হয়ে দ্বাদশ ব্যক্তির ডাক পড়লো । স্থানীয় খেলোয়াড়দের থেকেই দ্বাদশ ব্যক্তিকে দলে নেওয়া হতো, এটিই ছিল প্রচলন । তাই রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন প্রণব নন্দী এবং অলোক ভট্টাচার্য । অবশেষে চেতন চৌহান, রজার বিনি, সন্দীপ পাটিলদের সাথে মাঠে নামলেন হাওড়ার বাসিন্দা বাংলার রঞ্জি দলের খেলোয়াড় অলোক ভট্টাচার্য । হ্যাঁ, এই সেই অলোক ভট্টাচার্য । এটিই ছিল তার একমাত্র আন্তর্জাতিক আবির্ভাব । সেই ম্যাচে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে দর্শকদের নজর কাড়লেও আন্তর্জাতিক স্তরে মাঠে ফেরার পুনরায় সুযোগ পাননি তিনি । তবুও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন, থাকবেন । ক্রিকেটের গণ্ডির মধ্যেই তার আরও বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় আমরা পাই ।

'অলা' নামেই বেশি পরিচিত অলোক ভট্টাচার্য খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন ডান-হাতি অফ-স্পিনার । তবে লেগ-স্পিনটাও ছিল আয়ত্তের মধ্যে । তাই তার গুগলি খেলতে গিয়ে ব্যাটসম্যানদের ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়াই স্বাভাবিক । ব্যাটিংয়ে যে একদম অক্ষম ছিলেন তা হয় । পিচ আঁকরে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ দেওয়ার ক্ষমতাটিও ছিল । এবং সবচেয়ে অবিস্মরণীয় যে প্রতিভাটি ছিল, সেটি হল তার ফিল্ডিং । তিনি যে সময়ের খেলোয়াড়, সে সময় একজন বোলারের কাছ থেকে ধুরন্ধর ফিল্ডিং আশা করাটাই বাড়াবাড়ি । কিন্তু ঠিক এই জায়গাটায় অলোক ভট্টাচার্য নিজেকে আর পাঁচজনের থেকে আলাদা করে রাখতে পেরেছিলেন ।

তার সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হিসেবে ১৯৭৪-৭৫য়ের রঞ্জি মরশুমে আসামের বিরুদ্ধে বোলিং পারফরম্যান্সকে উল্লেখ করা যেতে পারে । সেই ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ছিল ১২.২-৬-১১-১০ । দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭ রানের বিনিময়ে ৭টি উইকেট সংগ্রহ করে বাংলা দলকে জয় উপহার দেন তিনি । 

১৯৭০ সালে বাংলা দলের হয়ে অভিষেক হয় অলোক ভট্টাচার্যের । জাতীয় দলে ডাক না এলেও, প্রথম সারির ক্রিকেটে তাকে থেমে থাকতে হয়নি । ৪২টি ম্যাচ খেলে সংগ্রহ করেছেন ১৩৪টি উইকেট । উইকেট সংখ্যা আহামরি কিছু না হলেও বোলিং গড় এবং স্টাইক রেট ছিল দুর্দান্ত । রান দেওয়ার ব্যাপারেও ছিলেন প্রচণ্ড কৃপণ । তাই প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলতে তার অবদান অস্বীকার করার পথ নেই । উইকেট পড়া তো খালি সময়ের অপেক্ষা ।

সীমিত ওভারের খেলায় চমক আনতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন । ৮টি লিস্ট এ ম্যাচ খেলার পর সাকুল্যে ১টি মাত্র উইকেটই তিনি সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন ।

বাংলার হয়ে খেলা ছাড়াও অলোক ভট্টাচার্য বেশ কিছু স্থানীয় ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন । মহামেডান, ইস্ট বেঙ্গল প্রভৃতি ক্লাবের হয়ে প্রচুর দাপুটে ম্যাচ খেলেছেন । শেষ ক্লাব ছিল শ্যামবাজার ।

বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক সম্বরণ অলোক ভট্টাচার্যের ব্যাপারে স্মৃতিচারণ করে বলছেন, 'জোরের ওপর লেগ স্পিন করতে পারতো ।...একবার আমেদাবাদে দলীপে পশ্চিমাঞ্চলের হয়ে কারসন ঘাউড়িকে দারুণ বেকায়দায় ফেলেছিল । কারসন বুঝতেই পারছিল না অলা কি বল করছে ।'  ভারতের জাতীয় দলের খেলোয়াড়, এই কারসন ঘাউড়ি ছিলেন সেই সময় ভারতের নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার । রঞ্জির পাশাপাশি অলোক ভট্টাচার্য ১৯৭৫-৮০য়ের মধ্যে পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ।

ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবেই তার অবদান শেষ হয়ে যায়নি । অবসর গ্রহনের পর ক্রিকেট আম্পায়ারিংয়ে মনোনিবেশ করেন । স্থানীয় ক্রিকেটে কড়া এবং তুখোড় আম্পায়ারের প্রসঙ্গ উঠলেই প্রথমে অলোক ভট্টাচার্যের নাম আসবে । ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান (ক্রিকেট) ম্যাচ কিংবা ঘরোয়া কোনও ক্লাব ম্যাচের ফাইনাল মানেই এক্সপার্ট আম্পায়ার অলোক ভট্টাচার্য । প্রথম শ্রেণির ম্যাচেই আম্পায়ারিং করেই ক্ষান্ত হননি তিনি । আন্তর্জাতিক সীমিত ওভারের ম্যাচেও আম্পায়ারিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন । তবে সংখ্যাটি নিতান্তই কম - মাত্র ৩টি । ২০০২ সালে মোহালিতে ভারত বনাম জিম্বাবোয়ে ম্যাচে তাকে শেষ আম্পায়ারিং করতে দেখা গেছে ।

এরপর তাকে দেখা যায় কোচের ভূমিকায় । বাংলার কনিষ্ঠ দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে । তবে এরচেয়ে বেশিদূর আর এগোননি ।

শেষ জীবনে প্রশাসকের ভূমিকাটি বেছে নেন পোড় খাওয়া বাঙালি ক্রিকেটার অলোক ভট্টাচার্য । জীবনের চড়াই-উতড়াইয়ে প্রথম শারীরিক বাঁধার সম্মুখীন হন তিনি । বাইপাস সার্জারি হয় । এতে একটুও দমে যাননি । ফের মাঠে ফিরে সিএবির বরিষ্ঠ দলের নির্বাচকের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ।

বাংলার আর এক প্রাক্তন অধিনায়ক লক্ষ্মীরতন শুক্লার কথায়, 'অনূর্ধ্ব-১৬ তে আমি যে বার প্রথম গায়ে বাংলার জার্সি পড়ি, সেই ম্যাচে অলোক স্যর কোচ । আমায় ডাকতেন টাইগার বলে । সবচেয়ে বড় কথা্‌ (তিনি) অনেক বড় মনের মানুষ ।' 

গত বছর (২০১৬) ২৫ ডিসেম্বর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান । তার প্রতি শেষ সম্মান হিসেবে তার মরদেহ সিএবিতে নিয়ে আসা হয়, সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়য়ের আনুষ্ঠানিকতায় ।

(সৌজন্যে কলকাতা ক্রিকেট ক্লাব গ্রুপের সদস্য বিভাস মল্লিক, পত্রিকা এ-বেলা এবং ইএসপিএনক্রিকইনফো)

Thursday, 3 August 2017

২০১৭, ৩ আগস্ট

বলছি কার্যকলাপ এক হলেও তার উদ্দেশ্য বা অভিসন্ধি এক নাও হতে পারে । সেদিনের ঘটনা -

৭৯এ-তে করে বারাসাত যাচ্ছি । উঠেছি শ্যামবাজারেই । পাতিপুকুর স্টপেজে একখান ছোকরা বাসে উঠল । বসলো ঠিক আমার সামনের সিটটিতে, টাকমাথা এক বয়স্ক ভদ্রলোকের পাশে । তখনই খেয়াল করলাম, ভদ্রলোকের বাঁ হাতের বুড়ো বাদে বাকি চারখানা আঙুলই গোড়া থেকে কাটা । দুর্ঘটনা বা কোনও রোমহর্ষক কাহিনির পরিণাম হতে পারে । অস্বাভাবিক কোনোকিছু দেখলেই তার পেছনে কোনও না কোন উদ্ভট গল্প কল্পনা করার বাতিক আমার বহুদিনের । তাই কি করে চারটে আঙুল কাটা পড়তে পারে, এই নিয়ে হ্যান-ত্যান ভাবতে লাগলাম । ভদ্রলোকটি পাশে বসলে না হয় আগ্রহ দেখিয়ে ঘটনাটা (বা আদৌ কোনও ঘটনা আছে কি না) জিজ্ঞেস করা যেত কিন্তু পিছনে বসে সেটা করা ঠিক ধাতে সইবে না । কিছুক্ষণ পর দেখি পাশের ছোকরাটিও উনার হাতখানা লক্ষ্য করছে । আমার মতো তারও চোখেমুখে কৌতূহল । ভালোই হল, আমার হয়ে সেই না হয় প্রশ্নটা করুক । এদিকে ভদ্রলোকটিও দেখি টের পেয়েছেন । ধরাবাঁধা প্রশ্ন আসবে । এর আগেও কতশত অনুসন্ধিৎসুর কৌতূহল মিটিয়ে থাকবেন । হয়তো মুখস্থ হয়ে গেছে উত্তর । তবুও মনে হল একটু গুছিয়ে নিলেন । আমিও মাথা বাড়ালাম । বাব্বা, দেখি কি আমার পাশের জনও আমাকে ফলো করছে । যাই হোক, তিন তিনখানি শ্রোতা । ছোকরাটি মাথা ঘুরিয়ে, 'মানে বলছিলাম কি, কিছু মনে না করেন...' ভূমিকা সেরে প্রশ্ন করল, 'আপনার ছুঁচতে অসুবিধা হয় না?'