অঙ্ক বললেই...
Amusement is one of the fields of applied mathematics.
- উইলিয়াম হোয়াইট*
ভালোই ভূমিকা হল । এবার আসল বক্তব্যে আসি । এই রিক্রিয়েশনাল ম্যাথের খেলোয়াড় খালি স্বাভাবিক সংখ্যা বা ধনাত্মক পূর্ণ সংখ্যা । শূন্যকেও দলে নেওয়া হয়েছে । এর বাইরে অন্য ধরণের সংখ্যারা এখানে বিশেষ পাত্তা করতে পারে না । জটিল সংখ্যা, মূলদ-অমূলদ, অন্য কোথাও যতই দাদাগিরি দেখাক, এখানে সবাই চুপটি করে বসে থাকে (মাঝেসাঝে ডাক পড়লে হাজির হয় বইকি) – এমনকি স্বাভাবিক সংখ্যার ভাইরাভাই, হাতে একটা করে ‘-’ ধরে থাকা ঋণাত্মক সংখ্যাও এখানে দ্বিতীয় শ্রেণীর লোক ।
এবার কিছু একটা বিষয় নিয়ে শুরু করা যেতেই পারে । সব বিষয় এক ঝোলায় ভরা সম্ভব নয় (যদি সম্ভবও হতো, তবে অসীম একটা ঝোলার দরকার পড়তো এবং অবশ্যই অসীম সময়েরও) । সব থেকে ভালো হবে নিধিরাম সর্দার দিয়ে শুরু করা যাক -
সংখ্যাটি হল 3435 । তিন হাজার তিনশো পঁয়ত্রিশ । কি আছে এমন সংখ্যাটিতে ? সংখ্যাটির শেষে 5 আছে, মানে 5 দিয়ে ভাগ যাবে । মানে মৌলিক সংখ্যা নয় । সংখ্যাটির আরও হাজার ধরণের ‘স্পেশালিটি’ উল্লেখ করাই যায়, কিন্তু তাতে আগ্রহ কমবে বই বাড়বে না । যেমন, যদি বলি – একটিমাত্র আইডেমপোটেন্ট এলিমেন্ট আছে এরকম ছয় অর্ডারের কমিউটেটিভ সেমি-গ্রুপের সংখ্যা হচ্ছে 3435, বা ষড়ভুজাকার স্পাইরালের 34-তম সংখ্যাটি হচ্ছে 3435 ! প্রথম উদাহরণের সমস্ত কথাই মাথার উপর দিয়ে গেল, দ্বিতীয়টির শব্দগুলোর আলাদা আলাদা মানে জানা থাকলেও মোটের ওপর কিছুই বোঝা গেল না । আর সেটাই এতক্ষণ ধরে বোঝাতে চাইছি – রিক্রিয়েশনাল ম্যাথ, না হায়ার ম্যাথামেটিক্স, না জ্যামিতি, না বীজগণিত কিছুরই ধার ধরে না । যে জিনিসটি বোঝা যাবে না সে জিনিসটি রিক্রিয়েশনাল ম্যাথের বিষয়ও হবে না । তাই চিন্তা নেই, এরকম অঙ্কভূতের গল্প শুনিয়ে মোটেই ভয় দেখাবো না । তাহলে মজাদার কিছু আছে কি 3435 কে নিয়ে ? অবশ্যই আছে । তবে তার আগে অন্য কিছু হোক ।
মৌলিক সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা আছে নিশ্চয়ই ? এবার একটা স্পেশাল মৌলিক সংখ্যার কথা বলি । থুড়ি, একটা না – জোড়া বা যমজ । হ্যাঁ, যমজ মৌলিক সংখ্যা বলেই ডাকা হয় তাদের – twin primes । যেমন – 5 ও 7 কিংবা 11 ও 13 । দুটো পরপর মৌলিক সংখ্যা । তাই যমজ মৌলিক । আচ্ছা, পরপর কই, দুইয়ের পার্থক্য আছে তো । 1 পার্থক্য হলে, তবে না হয় পরপর বলতাম । ঠিকই । কিন্তু দুর্ভাগ্য ! হবে কি করে । যে কোনো মৌলিক সংখ্যার (2 একমাত্র ব্যতিক্রম) এপাশে-ওপাশে দুপাশেই জোড় সংখ্যা । যেমন, 19 এর আগে 18, পরে 20 । তার কারণও আছে । 2 বাদে সমস্ত মৌলিক সংখ্যাই বিজোড় । আর আমরা জানি বিজোড়ের আগে জোড় আবার পরেও জোড় (ভাইস-ভার্সা) । আর জোড় সংখ্যা তো মৌলিক হতে পারে না (কারণ তারা সবসমই 2 দিয়ে ভাগ যাবে), তাই পরপর না ধরে মৌলিক সংখ্যাগুলোর ক্ষেত্রে দুইয়ের পার্থক্যকে 'পরপর' বলে ধরে নেওয়া হয় । তবে একটিমাত্র ক্ষেত্রেই আসল 'পরপর' মৌলিক সংখ্যা পাওয়া যায় । হ্যাঁ ঠিক, 2 ও 3 । এরাই একমাত্র জোড়া মৌলিক সংখ্যা, যাদের পার্থক্য 1 । যাই হোক, এখন এটা ভেবে বসা ভুল হবে যে সব মৌলিক সংখ্যারই একটা করে যমজ ভাই বা বোন থাকবে । মাথা খারাপ । ভাই বা বোন থাকলেই অনেকের নাভিশ্বাস উঠে যায়, তার ওপর যমজ ! যেমন – দুই অঙ্কের সবচেয়ে বড় মৌলিক সংখ্যা 97 কে ধরা যাক, এর পরের মৌলিক সংখ্যা 101 – 4 ঘর দূরে । আর আগেরটা, 89 সে আরও দূরে, 8 ঘর । তো 97-এর কোনো যমজ ভাইবোন নেই ।
এই যমজ মৌলিক সংখ্যা সম্পর্কে দুটো কথা বলি । সংখ্যা যত বাড়তে বাড়তে গেছে যমজ মৌলিক সংখ্যাজোড়ার ঘনত্ব তত কমতে কমতে গেছে । শুরুতে কতই না জোড়ায়-জোড়ায় ভাই বোন । 3 ও 5, 5 ও 7, 11 ও 13, 17 ও 19 । কিন্তু সংখ্যা যত বড়ো হতে থেকেছে তত যমজ মৌলিকের সংখ্যা কমতে থেকেছে । 1 থেকে 1000-এর মধ্যে 35 জোড়া যমজ মৌলিক সংখ্যা থাকলেও, সেই তুলনায় 1 থেকে 10000-এর মধ্যে বেশ কম যমজই আছে - 205 টি । একটু আলাদা ধরণের উদাহরণ দেওয়া যাক । একটু সামলে, কেমন !
2006 সালে মাইকেল কক নামে একজন ম্যাথামেটিশিয়ান Twin Prime Search নামে (সংক্ষেপে TPS) একটি কম্পিউটার নির্ভর প্রোজেক্ট চালু করেন । ভদ্রলোকেদের ভাষায় সেটিকে ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং প্রোজেক্ট বলা হয়ে থাকে । বড়ো বড়ো যমজ মৌলিক সংখ্যা খুঁজে বের করাই এই প্রোজেক্টের একমাত্র কাজ । TPS-এর প্রথম সাফল্য আসে 2007 সালের 15ই জানুয়ারি । এরিক ভচিয়ের নামে কেও একজন কম্পিউটার এক্সপার্ট 58711 অঙ্ক লম্বা দুটি যমজ মৌলিক সংখ্যা খুঁজে বের করেন । গোটা সংখ্যাটি লেখা অসম্ভব । সূচকের সৌজন্যে সংখ্যাদুটির ভদ্র-সভ্য রূপটি হচ্ছে
। দুই বছর পর TPS-এর দল তার চেয়েও বড়ো দুটি যমজ জোড়া খুঁজে পায় । সেটি হল
এবং এটির অঙ্কের সংখ্যা দাঁড়ায় 100355 । আগেরটি থেকে এটি কত বড়, তা সহজেই আন্দাজ করা যায় । (পরবর্তীকালে এই দুই জোড়া যমজের মাঝে আরও 4 জোড়া যমজের খোঁজ পাওয়া গেছে । দেখতে গেলে, তবুও এরা যথেষ্ট দূরে দূরে ছড়িয়ে আছে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই) । এই আজকের তারিখ পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো আবিষ্কৃত যমজ জোড়াটি হচ্ছে
। এটির অঙ্কের সংখ্যা মাত্র 388342 । বিশ্রাম না নিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যদি একটি করে অঙ্ক টানা লিখতে লিখতে যায় তবে পুরো সংখ্যাটি লিখতে কম করে 4 দিন 11 ঘন্টা 52 মিনিট 22 সেকেন্ড সময় লাগবে । ভুলে গেলে চলবে না, এখানে যমজ মৌলিকের আলোচনা হচ্ছে । তাই আরও 4 দিন 11 ঘন্টা 52 মিনিট 22 সেকেন্ড লাগবে দ্বিতীয় মৌলিক সংখ্যাটি লিখতে ।
যমজ মৌলিকের ঘনত্বের ঘাটা দেখে অনেকের ধারণা হল যে, একসময় এই যমজ জোড়া শেষ হয়ে যাবে । মৌলিক সংখ্যার কমতি দেখেও হয়তো অনেকের একই জিনিস মনে হয়েছিল । কিন্তু সন্দেহ দানা বাধার আগেই ইউক্লিড প্রমাণ করে দিয়েছিলেন - মৌলিক সংখ্যা অসংখ্য । ইউক্লিড মহাশয় যমজ মৌলিক সংখ্যার ব্যাপারেও ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে তাঁর মনেও প্রশ্ন জেগেছিল - যমজ মৌলিক জোড়ার সংখ্যাও কি অসংখ্য ? দুর্ভাগ্যক্রমে এর কিন্তু তিনি কোনো প্রমাণ দিয়ে যেতে পারেননি । অথচ চাইলেই নতুন নতুন যমজ জোড়া খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, তাই ভেবেচিন্তে ঘোষণা করে দিলেন - হ্যাঁ, যমজ মৌলিক সংখ্যা জোড়াও অসংখ্য । অঙ্কের কোনো বিশেষ পর্যবেক্ষণের যদি প্রমাণ না পাওয়া যায় (তার সাথে সাথে ভুলও প্রমাণ না করা যায়) তবে সেগুলোকে কনজেকচার (conjecture) ঘোষণা করে দেওয়া হয় (বাংলায় বলা হয় অনুমান, কিন্তু এখানে আমরা কনজেকচারই বলবো) । বিজ্ঞানে যেটিকে আমরা প্রকল্প (hypothesis) বলে থাকি, অঙ্কে সেটিই হচ্ছে কনজেকচার । এই যেমন ইউক্লিড ঘোষণা করে দিলেন Twin Prime Conjecture । যতদিন না প্রমাণিত হচ্ছে ততদিন সেটিকে কনজেকচারই বলা হবে । প্রমাণিত হয়ে গেলে হয়ে যাবে সূত্র বা উপপাদ্য । আর ভুল প্রমাণ হয়ে গেলে মিলবে লবডঙ্কা ! এইসমস্ত কাণ্ডকারখানা খ্রিস্টের জন্মের 200-300 বছর আগের ঘটনা । দু'হাজারের বেশি বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো ম্যাথামেটিশিয়ানই এখনও পর্যন্ত টোয়াইন প্রাইম কনজেকচারের প্রমাণ দিতে পারেননি, ভুল প্রমাণ করতেও পারেননি ।
2006 সালে মাইকেল কক নামে একজন ম্যাথামেটিশিয়ান Twin Prime Search নামে (সংক্ষেপে TPS) একটি কম্পিউটার নির্ভর প্রোজেক্ট চালু করেন । ভদ্রলোকেদের ভাষায় সেটিকে ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং প্রোজেক্ট বলা হয়ে থাকে । বড়ো বড়ো যমজ মৌলিক সংখ্যা খুঁজে বের করাই এই প্রোজেক্টের একমাত্র কাজ । TPS-এর প্রথম সাফল্য আসে 2007 সালের 15ই জানুয়ারি । এরিক ভচিয়ের নামে কেও একজন কম্পিউটার এক্সপার্ট 58711 অঙ্ক লম্বা দুটি যমজ মৌলিক সংখ্যা খুঁজে বের করেন । গোটা সংখ্যাটি লেখা অসম্ভব । সূচকের সৌজন্যে সংখ্যাদুটির ভদ্র-সভ্য রূপটি হচ্ছে
যমজ মৌলিকের ঘনত্বের ঘাটা দেখে অনেকের ধারণা হল যে, একসময় এই যমজ জোড়া শেষ হয়ে যাবে । মৌলিক সংখ্যার কমতি দেখেও হয়তো অনেকের একই জিনিস মনে হয়েছিল । কিন্তু সন্দেহ দানা বাধার আগেই ইউক্লিড প্রমাণ করে দিয়েছিলেন - মৌলিক সংখ্যা অসংখ্য । ইউক্লিড মহাশয় যমজ মৌলিক সংখ্যার ব্যাপারেও ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে তাঁর মনেও প্রশ্ন জেগেছিল - যমজ মৌলিক জোড়ার সংখ্যাও কি অসংখ্য ? দুর্ভাগ্যক্রমে এর কিন্তু তিনি কোনো প্রমাণ দিয়ে যেতে পারেননি । অথচ চাইলেই নতুন নতুন যমজ জোড়া খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, তাই ভেবেচিন্তে ঘোষণা করে দিলেন - হ্যাঁ, যমজ মৌলিক সংখ্যা জোড়াও অসংখ্য । অঙ্কের কোনো বিশেষ পর্যবেক্ষণের যদি প্রমাণ না পাওয়া যায় (তার সাথে সাথে ভুলও প্রমাণ না করা যায়) তবে সেগুলোকে কনজেকচার (conjecture) ঘোষণা করে দেওয়া হয় (বাংলায় বলা হয় অনুমান, কিন্তু এখানে আমরা কনজেকচারই বলবো) । বিজ্ঞানে যেটিকে আমরা প্রকল্প (hypothesis) বলে থাকি, অঙ্কে সেটিই হচ্ছে কনজেকচার । এই যেমন ইউক্লিড ঘোষণা করে দিলেন Twin Prime Conjecture । যতদিন না প্রমাণিত হচ্ছে ততদিন সেটিকে কনজেকচারই বলা হবে । প্রমাণিত হয়ে গেলে হয়ে যাবে সূত্র বা উপপাদ্য । আর ভুল প্রমাণ হয়ে গেলে মিলবে লবডঙ্কা ! এইসমস্ত কাণ্ডকারখানা খ্রিস্টের জন্মের 200-300 বছর আগের ঘটনা । দু'হাজারের বেশি বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো ম্যাথামেটিশিয়ানই এখনও পর্যন্ত টোয়াইন প্রাইম কনজেকচারের প্রমাণ দিতে পারেননি, ভুল প্রমাণ করতেও পারেননি ।
তাহলে রিক্রিয়েশনাল ম্যাথ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হচ্ছে ? এবার তাহলে 3435-এর গল্পে আসা যাক । আচ্ছা, কোনো সংখ্যার প্রত্যেকটি অঙ্কের ঘাতে (বা পাওয়ারে) সেই অঙ্কগুলি চাপিয়েই তাদের যোগফল বের করলে কি পাব ? উদাহরণ দেওয়া যাক । 123 সংখ্যাটি নেওয়া হল । 1 এর ঘাতে 1 চাপালে হয়
, একইভাবে 2 এর ঘাতে 2 এবং 3 এর ঘাতে 3 চাপালে হয় যথাক্রমে
এবং
। এখন তাদের যোগফল নিলে পাব -
=
। মজার তো কিছু হল না ! মজার জিনিস হবে যখন 123 এর বদলে 3435 সংখ্যাটি নেওয়া হবে । তখন একইভাবে 3 এর ঘাতে 3, 4 এর ঘাতে 4, ফের 3 এর ঘাতে 3, শেষে 5 এর ঘাতে 5 চাপিয়ে তাদের যোগ নিলে পাব
=
, অর্থাৎ সেই সংখ্যাটা নিজেই ! আজব না ? এই ধরণের সংখ্যার একটা নাম দেওয়া হয়েছে – পারফেক্ট ডিজিট টু ডিজিট ইনভ্যারিয়েন্ট (Perfect Digit to Digit Invariant) বা শর্টে পিডিডিই বা PDDE । যদিও এটা একটা টেকনিক্যাল নাম । 2009 সালে নেদারল্যান্ডের একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডান ভান বার্কেল, প্রথম এটি লক্ষ্য করেন । তিনি কিন্তু 3435 এর নাম রাখলেন মুঞ্চাওজেন নম্বর । ভেঙে ভেঙে বললে হয় মুন-চাও-জেন (Munchausen Numbers) । এই ‘মুনচাওজেন’ জিনিসটা কি, খায় না মাথায় দেয় ? কোনোটিই নয় । মুনচাওজেন একজন লোকের নাম । তিনি একজন আধা কাল্পনিক আধা বাস্তব আধা মধ্যযুগীয় চরিত্র । নাম ব্যারন মুনচাওজেনের । ‘ব্যারন’ – ইউরোপের এক সম্মানীয় পদ বা উপাধি, আমাদের দেশে যেমন রায়বাহাদুর ইত্যাদি । কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সাথে মধ্যযুগীয় ব্যারনের কি সম্পর্ক যে তার নামে নাম রাখতে যাবেন ! তার কারণ জানার আগে একটি সিনেমার কথা বলি ।
সিনেমাটির নাম হচ্ছে দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ব্যারন মুনচাওজেন । 1988 সালের সিনেমা । ফ্যান্টাসি । ওই ডন কুইক্জোট (অনেকে বলে কিহোতে) বা আমাদের নিধিরাম সর্দার টাইপ ক্যারেকটার । মুখে বড় বড় কথা – এই করেছি সেই করেছি । কিন্তু কারোরই পাত্তা পান না । সকলের কাছে তিনি একজন মামুলি পাগল কিংবা মাতাল । কিন্তু কেও যদি মনোযোগ দিয়ে একবার তার আষাঢ়ে গল্প শুনতে শুরু করে তাহলে বাচ্চারা তো দূরে থাক বুড়োধারিরাও সম্মোহিতের মতো তার কথা বিশ্বাস না করে পারে না । যাই হোক সিনেমার গল্প বলতে বসবো না । তবে এই দৃশ্যটির কথা না বললেই নয় । মোদ্দা কথা ব্যারন মুনচাওজেন অ্যাডভেঞ্চার করে বেরান । এরকমই কোনো এক সময় শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পুরো ঘোড়া সমেত সমুদ্রে ঝাঁপ দেন তিনি । কিন্তু ডুবে যাওয়া তো দূরের কথা, দেখতে পাই আস্ত ঘোড়া সমেত ব্যারন মুনচাওজেন সমুদ্রের ওপর ভেসে উঠেছেন । কি করে ? ব্যারনের একটা লম্বা ঝুঁটি আছে । ব্যারন নিজের ঝুঁটি নিজেই খামচে ধরে নিজেকে জলের নিচ থেকে তুলে আনেন এবং ঝুঁটি ধরে নিজেকে জলের ওপর ভাসিয়েও রাখেন । আষাঢ়ে গল্প বলছিলাম না ! ব্যারন মুনচাওজেনের এই ব্যাপারটা ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মনে ধরে । 3435 এর ক্ষেত্রে প্রত্যেকটা অঙ্ক যেন নিজেদের ঝুঁটি ধরে নিজেদেরকেই তুলে দিয়েছে নিজেদের উপর । এবং তা সত্বেও অপরিবর্তিত রয়েছে – সুরক্ষিত রয়েছে । সে থেকেই মুনচাওজেন নম্বর । বলে রাখি ব্যারন মুনচাওজেনের আসল স্রষ্টা হলেন একজন জার্মান লেখক (বৈজ্ঞানিকও) রুডলফ এরিক রাস্প্ । অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি তুরস্ক-রাশিয়ার যুদ্ধে এরোনিমাস কার্ল ফ্রেডরিক ফ্রেইহর ভন মুনচাওজেন নামে একজন সত্যিকারের জার্মান ব্যারন রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে যোগ দেন । যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে লোকজনদের যুদ্ধক্ষেত্রের আষাঢ়ে গল্প বানিয়ে বানিয়ে শোনাতে থাকেন এবং জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন । আর কি, তাকে নিয়েই এরিক রাস্প্ বই লিখে ফেলেন 'Baron Munchausen's Narrative of his Marvellous Travels and Campaigns in Russia' । সেই থেকেই সিনেমা । সেই থেকেই নম্বর ।
আরেকটি মুনচাওজেন নম্বর আছে । সেটা হল 1 । কারণ 1 এর ওপর 1 চাপলে 1 ই থাকে । আরও কি আছে ? খুঁজতে যাস না । আর একটিও নেই । অবশ্য মুনচাওজেন নম্বর যে হাতে গোনা সীমিত সংখ্যকই আছে, তা ম্যাথামেটিক্যালি প্রমাণিত । তাই বলে মাত্র দুটি ?
অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান (লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এবং প্রাক্তন অঙ্কের শিক্ষক) ম্যাথিউ পার্কার এক অস্বস্তিকর কাজ করে বসলেন । তিনি 438579088 সংখ্যাটিকেও মুনচাওজেন নম্বর ঘোষণা করে দিলেন । প্রশ্ন উঠবে, তিনি ঘোষণা করার কে ? মুনচাওজেনের কেরামতি দেখালে মুনচাওজেন নম্বর হবে, নইলে নয় । তবুও এখানে একটি ছোট্ট সমস্যা থাকছে । লক্ষ্য করলে দেখতে পাব, সংখ্যাটির শতকের ঘরে 0 বসে আছে । 0 এর ঘাতে 0 চাপলে কি হয় আমাদের জানা নেই । অসংজ্ঞাত । 0 বাদে যেকোনো সংখ্যার ঘাতে 0 চাপলে 1 হয় জানি কিন্তু
এবার
*A Scrap-Book of Elementary Mathematics বইয়ের লেখক