ছয়
কাউকে এড়িয়ে চলতে গেলে তার উপস্থিতিকে অস্বীকার করাটা আবশ্যিক। চিবিক্ত ভান করতে শুরু করে যেন ককটেল গ্রুপে সে আর ডেপুটি ছাড়া আর কেউ নেই। কেবলমাত্র ডেপুটিকে উদ্দেশ্য করে কথা বলতে থাকে। অনেক কিছুই বলতে থাকে। 'ভূত আমার পুত, পেত্নী আমার ঝি' জোরে জোরে বলতে হয়, যাতে স্বয়ং ভূতও শুনতে পায়। ডেপুটি ডেপুটির ভূমিকা ভালো ভাবেই পালন করে। অন্যদিকে মোদী আর বিজেপিকে নিয়ে লালের বিরক্তিকর মিমস শেয়ার চলতে থাকে।
হয়তো চিবিক্ত আদৌ ক্ত নয়, কেবল মাত্র চিবি মুতু। তাতে লালের কিছু এসে যায় না! পারলে সে চিবিকে ক্ত বানিয়েই ছাড়ছে। কিন্তু লালও নিশ্চিত নয়, ঠিক কোন ভূত দেখে চিবিক্ত চিৎকার করে উঠবে?
২১শে জুন
সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার পেছনে বলিউডের নেপোটিজম কতটা দায়ী বা আদৌ দায়ী কি না, সেটা বর্তমানে জাতীয় বিতর্কের রূপ নেয়। ককটেলের সদস্যরাও তাতে অংশ নেয়। বলিউডের অভিনেত্রী সোনম কাপুর নেপোটিজমের সমর্থনে বিতর্কমূলক মন্তব্য করে। সেটিকে কেন্দ্র করে শেষ দিনের লড়াই শুরু হয়।
লাল: নাচনেওয়ালিরাও অহংকার দেখাতে কম যায় না।
ডেপুটি: ঠিক।
চিবিক্ত: নেপোটিজম তো বলিউডে বরাবরই। এটা একটা হিউজ প্রবলেম। এতদিন মানুষ সোচ্চার হয়েছে এটা ভালো কথা। যদিও নেপোটিজম শুধু বলিউডে নয়, এই দেশের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে রয়েছে। ইভেন ইন্ডিয়ান পলিটিক্সের হিস্ট্রিতে তো আষ্টেপিষ্টে আছে। হ্যাঁ আমি নেহেরু ফ্যামিলির কথাই বলছি। তিন পরপর প্রজন্মের তিনজন ইন্ডিয়ার প্রাইম মিনিস্টার থেকেছে, জাস্ট ভাবা যায়! মনে হয় গণতন্ত্র নয়, রাজতন্ত্র চলছিল এ দেশে। একটা ফ্যামিলি ইন্ডিয়াকে শাসন করছে দীর্ঘদিন ধরে। এটাই ভারতের বৃহত্তম নেপোটিজমের এক্সাম্পল। জানিনা কেন স্বল্প খ্যাত, অ্যাভারেজ লেভেল অ্যাকটরকে মরে গিয়ে ব্যাপারটা সবাইকে মনে করাতে হলো! বাকি থাকলো সহানুভূতির কথা? যদি সুইসাইড করে মরে থাকে, তাহলে বলবো যে নিজের লাইফের প্রতি কোন সিমপ্যাথি শো করেনি, তার প্রতি কিইবা সিমপ্যাথি থাকবে।
লাল: সুযোগের টুঁ পেলেই নেহরুর ভূত নামানোয় মরিয়া মোদীর মতো মুতে নুনু ঝাঁকিয়ে নেওয়ার স্বতঃস্ফূর্ত আস্ফালনে ভক্তগণ বিরত থাকবে, 'জাস্ট ভাবা যায়'? আলু পচা পর্তুগাল দায়ী, রাবন পচা সীতা। ভোট দেয় ভিখারি, আমি বাবু সরকারি।
বাঁধ ভেঙে দাও...বাঁধ ভেঙে দাও...বাঁধ ভেঙে দাও...দিলও ঠিক চিবিক্ত বাঁধ ভেঙে
চিবিক্ত: আমার এই লেখাটা কিন্তু ফরোয়ার্ডেড নয়। আমার নিজের লেখা, নিজের ফিলিংস।
কাজেই যা বলবি, যাকে বলবি, ভেবে বলবি। ততটাই বলবি, যতটা পরে রেশনালাইজ করতে পারবি, যতটা যাকে বলছিস ততটা তাকে বোঝাতে পারবি। যতটা জেনারালাইজ করতে পারবি। ব্যক্তিগত আক্রমণ করার জন্য আশা করি গ্রুপটা খোলা হয়নি।
বাছা-বাছা তত্ত্বকথা জ্ঞানী-গুণীদের কোট থেকে নোংরা খিস্তিতে নেমে এসেছিস দেখছি। "তোমাকে বলিনি, ইন জেনারেল বলছি, তুমি গায়ে মাখছো কেন?", এসব কথা বলে আশা করি পরে মেকআপ করার চেষ্টাও করবি না। ঘাসে মুখ দিয়ে কেউ চলে না। বিচারবুদ্ধি সবারই আছে। একটা পার্টিকুলার পোষ্টের এগেনস্টে কিছু বলার মানে, পোস্টটা যার তাকেই বলা, সেটা না বোঝার মতন ইমম্যাচিউরিটি নিশ্চয়ই আর নেই।
লাল: যাঃ বাবা! দিনরাত বিজেপির জপ করে করে এই অবস্থা হয়েছে রাজ্যের। নবারুণ ভট্টাচার্যকে ছুড়ে ফেলে হিন্দিভাষীদের রামায়ণ-মহাভারতের আদলে কথা বলতে হবে দেখছি - মাতাশ্রী, পিতাশ্রী, মহর্ষি। গোমূত্রে কুলকুচি নিকট ভবিষ্যৎ।
ব্যক্তিগত আক্রমণে নির্দেশক সর্বনাম ব্যবহার্য। হ্যাঁ এবার আজান শুনে মোল্লা বেচ্যান হলে আমি কি করতে পারি।
২২শে জুন
ডেপুটি: একটু বেশি বিটারনেস ভরে গেছে তোমার মধ্যে, আমরা বিরোধী হতে পারি, শত্রু নিশ্চই নই।তাই এত তীক্ষ্ণ শব্দের কি খুব দরকার আছে?
লাল: কে তীক্ষ্ণ শব্দ ব্যবহার করছে?
ডেপুটি: তুমি, আবার কে!
লাল: আর ডেপুটিটা কে?
ডেপুটি: কে?
লাল: বয়কট চায়না ছেড়ে, "ভাবো, ভাবো। ভাবা প্র্যাক্টিস করো।"
ডেপুটি: কোন কনটেক্সটে বলছো?
লাল বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না (কারণ, ডেপুটি 'কনটেক্সট'টা ঠিকই বুঝতে পেরেছে। তার বদলে লাল যারা ইংরেজি সিনেমা হিন্দি বা অন্য ভাষায় ডাবিং দেখতে পছন্দ করে, তাদের ব্যঙ্গ করে একটি মিম শেয়ার করে। আর এই গ্রুপে 'যারা' বলেতে কেবল একজনই আছে।
বিজেপির রামদাস আঠওলের হোটেল-রেস্টুরেন্টে চাইনিজ খাবার বয়কটের পরামর্শ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অধিবাসীদের ওপর তার কি প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়ে আগের দিন করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে লাল একটি ভিডিও শেয়ার করে। বিজেপির ভক্তদের দ্বারা মুম্বইয়ের কোনো একটি চীনা খেলনার দোকান ভাঙচুরের ভিডিও।
লাল: দোকানটি যদিও মুম্বাইয়ে এবং আমি নিশ্চিত দোকানদার সরকারি বেতনভোগী সুবিধাবাদী শ্রেণীর লোক নন। 'বিটারনেস' লোকে সখে পালন করে না।
এদিকে ডেপুটি লেগেই আছে।
ডেপুটি: ডেপুটি কেনো বললে বলো?
লাল: (সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে) আর যখন উঠপাখির মতো মাটিতে মাথা গুঁজে পড়ে থাকার মতো মানুষ দেখি, তখন আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
ডেপুটি: ঠিক আছে।
ঠিক আছে। এবার অনুচ্ছেদ রচনার জন্য প্রস্তুত হোন।
চিবিক্ত: নিজেকে এডুকেটেড ভাবা ভালো। বাট আমি মনে করি এডুকেশন নম্র ভদ্র হওয়া শেখায়। এটাও এডুকেশনের একটা পার্ট। না হলে তো পাঠ্যবইয়ে নবারুনের লেখা থাকতো। যদিও ডব্লিউবিতে কথাঞ্জলির কিছু কিছু অংশ পাঠ্যবইতে ঢুকে গেলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এডুকেশন অপমান সহ্য করার ক্ষমতা শেখায়। অন্যকে ধুয়ে দেওয়া তে কোন ক্রেডিট নেই। আফটার সার্টেন টাইম সেটা সবাই বুঝতে পারে, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। যারা ইংলিশ বোঝো, তাদের সঙ্গেও যেমন মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলাটা অন্যায় নয়, সেরকম নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট হিন্দি অর বাংলা ডাব্ড দেখাও অশিক্ষার পরিচয় নয়।
(অন্য ভাষায় ডাবিংয়ের মিমটির প্রসঙ্গে) আমি ডেপুটিকে বলেছিলাম যে আমি 'স্ট্রেঞ্জার থিংস' হিন্দি ডাব্ডে দেখলাম সিজন ৩টা। তাই এটাও আমাকে বলা হয়েছে বুঝতেই পারছি। এই গ্রুপে আসার পরের দিন থেকে এরকম কথা শুনেই যাচ্ছি। হ্যাঁ, এডুকেশন অপমান সহ্য করার ক্ষমতা শেখায় কিন্তু তারও একটা লিমিট আছে। লাল অর ডেপুটি ডব্লিউবিসিএস, ইউপিএসসি অর আরও বেটার কোন সার্ভিস পেয়ে গেলে তোরাও সরকারি বেতনভোগী প্রিভিলেজড ক্লাসের লোক হয়ে যাবি। এতে কোনো অপরাধ নেই, আছে কি? একবার নয়, একাধিকবার বলা হয়েছে। আর এই গ্রুপে সরকারি চাকুরে আপাতত একজনই আছে সেটা নিশ্চয়ই মনে করিয়ে দিতে হবে না। এটা তো ওপেন প্ল্যাটফর্ম নয়, যেখানে জেনেরালাইজ বক্তৃতা দেওয়া যেতে পারে। এখানে জাস্ট তিন জনই আছে। এখানে রানাঘাটের (ডেপুটির বাড়ি) লোকদের নামে কিছু বললে ডেপুটির গায়েই লাগবে, যতই আমি বলি না কেন যে আমি রানাঘাটের জেনারেল পাবলিকের কথা বলছিলাম।
আমি নিজেও কোনদিন মোদীকে সমর্থন করে একটা অক্ষর লিখিনি এই গ্রুপে। কারন আমি নিজেও মোদীর সমর্থক নই। আমিতো ডব্লিউবিয়ের প্রায় সব মিনিস্টার কে হেট করি, কিন্তু কই, এই গ্রুপে কারো সম্পর্কে তো খারাপ কিছু লিখিনি। তখনই লিখতাম, যদি এই মাত্র তিনজনের সংকীর্ণ গ্রুপে তিনজনেরই পলিটিক্যাল মতামত এবং ভিউ একই রকম হতো। তা নয় যেখানে, তখন সে সব বলা বা পোস্ট করার মানে কারোর না কারোর গায়ে লেগে যেতে পারে। বললাম তো কাউকে হার্ট করা বা ধুয়ে দিতে সবাই পারে নিজের নিজের পদ্ধতিতে, বাট সামনের মানুষটা যদি ডাইরেক্টলি অর ইনডাইরেক্টলি আমার কোন ক্ষতি না করে, তাহলে সেটা করতে যাওয়া অমানবিক, এবং অতিমাত্রায় বোকামো।
চায়না জিনিস বর্জনের পক্ষে আমি আজকে ছিলাম না। আগেও মনে হয়েছে। হ্যাঁ, হয়তো তেমন কোনো ইনিশিয়েটিভ নিইনি। এবারে পরিস্থিতি অন্যরকম, তাই কিছুটা হয়তো নিতে পারবো। বাট এ সবকিছুই আমার বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করে মন স্থির করা। মোদী বলেছে বলে নয়। মোদী কখনোই আমার অর আমাদের পথপ্রদর্শক হতে পারে না। কিন্তু সে তো আজ ক্ষমতায়, সে তো চাইবেই তার মতন করে জনগণকে ম্যানিপুলেট করতে। এটাই পলিটিক্স, আর এটা ডার্টি হবেই। মতামত ভিন্ন হতেই পারে। এটাই ন্যাচারাল। কিন্তু তার জন্যে কাউকে হার্ট করার মধ্যে বিন্দুমাত্র ক্রেডিট নেই। এই কথাটা আসন্ন ১০ ইয়ার্সের মধ্যে ক্লিয়ারলি বুঝে যাবি। সে তুই তখন স্বীকার করিস বা না করিস।
গ্রুপটা খুলেছিলাম শুধুমাত্র সুস্থ আলোচনা, আর কিছু ফিলিংস আদান-প্রদানের জন্য। যেন তিনজনেরই গ্রুপে আসার আনন্দ পায়, যেন বসে কিছুটা গল্পগুজব করার মতন এনভায়রনমেন্ট তৈরি হয়। বাট এটা একটা ঘৃণ্য, অসুস্থ, খিস্তি-খামারি যুক্ত, কাদা ছোড়াছুড়ির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তাও এটা পাড়ার রক নয়, যে রাজনীতি নিয়ে কড়া কড়া কথা শুনিয়ে দেব অল্প পরিচিত লোকটাকে। নিজের যেটা এন্টারটেইনমেন্ট মনে হচ্ছে, সেটা যেন কেউ পার্সোনালি না নেয়, আমার ভাবাবেগ যেন অন্যকে শুধুমাত্র হার্ট করে পর্যদুস্ত না করে, সেই খেয়াল সবার রাখা উচিত।
আমার তাড়াতাড়ি লিখতে গিয়ে টাইপিং মিসটেক আর বাংলা অক্ষরে না লেখার জন্য হয়তো কথা শুনতে হতে পারে। কিন্তু ঠাট্টা ইয়ার্কি নিজের জায়গায়, হার্ট করে আনন্দ পাওয়াটা কাউকে খুন করে আনন্দ পাওয়ার মতন অনেকটা। এডুকেটেড মনে করা, আর সত্যিকারের হওয়ার মধ্যে পার্থক্যটা আজ হাড়ে হাড়ে লক্ষ্য করলাম।
উপভোগকালে মুখ বন্ধ রাখাই শ্রেয়। ডেপুটি তার চিপকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। চিবিক্তের অক্সিজেন - সিনেমা নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে ফুসফুস বিকল হয়ে পড়েছে।
(ডেপুটিকে বিশেষ একটি সিনেমা প্রসঙ্গে) আচ্ছা, এটা কি বলিউডের নয় তুই বল। বলিউডকে মাদারচোদ বলেছিস তুই। কিন্তু কই বয়কট তো করিসনি। তার কারণটা কি বলতো? অনেক কিছু ভালোও আছে বলিউডে। আর থাকবেও। মানুষের কীর্তির ঘৃণ্যতম জিনিস হলে নিশ্চয়ই এটাকে বাদ দিয়েই চলতে পারতিস। আর একটা কথা, তুই কি হিন্দি ডাব্ড কিছু দেখিস না? আজ পর্যন্ত কোনো ইংলিস ফিল্ম দেখিসনি এভাবে? আমার মনে হয় আমার থেকেও অনেক বেশি দেখেছিস। কারণ আমি ২০ ইয়ারস আগে থেকে সাবটাইটেল দিয়ে দেখতে বেশি অভ্যস্ত। কিন্তু তবুও মাঝে মধ্যে হিন্দি ডাব্ড খোঁজ করি কেন? তার ২টো কারণ, ১) কিছু খুচরো কিন্তু ইমপরটেন্ট কথা, ফিলিংস, ভাবনা ইংলিসে কখনো কখনো বিলীন হয়ে যায়। স্পেশালি আমেরিকান অ্যাকসেন্টে যেসব ফিল্মে কনভারসেশন থাকে। ২) ফ্যামিলির সবাই বোঝে। সবার সঙ্গে বসে দেখা যায়। হিন্দি ল্যাঙ্গুয়েজটাকে প্রোমোট করার জন্য নয়।
ডেপুটি: সরি বাট আমি এখন ডাবিংয়ের পক্ষে নেই, রিসেন্টলি অ্যাভেঞ্জার্সয়ের ডাবিং শুনলে আত্মহত্যা করতে মনে করবে।
চিবিক্ত: এখন নেই। বাট বলিউড যে আমাদের হিন্দি শিখিয়েছে, সেটা কি অস্বীকার করতে পারবি? ফিল্ম দেখাও শিখেছি বলিউডের হাত ধরে আমরা প্রায় সবাই। আগে বলিউডে নেপোটিজম ছিল না? নাকি তখন হিন্দিতে অ্যাক্টর অ্যাক্ট্রেসরা কথা বলতো না?
ডেপুটি: এই সবের ক্রেডিট তুমি ফালতু সিনেমাগুলোকেই দেবে।
দোলনায় দুলতে দুলতে মাঝে মাঝে পা নামিয়ে মাটিতে চাগাড় দিতে হয়, পাছে যাতে সেটি থেমে না যায়।
লাল: আমি মনে করি ঘোড়ার ডিম! বাস, ঘোড়া ডিম পেড়ে দিল। নিজের স্বার্থে হাওয়া লাগানোর উপযুক্ত করে 'আমি মনে করি এটা ঠিক, ওটা ঠিক' বলে দিলেই তো আর হল না। শিক্ষাকে এভাবে নিজের স্বার্থে নাচানো শিক্ষার উদ্দেশ্যকেই বিফল করে। যেমন আমার মতে, শিক্ষা হল - যদি গোয়ার্তুমি করে তবে গুরুজনদেরকেও মুখের উপর 'থামুন তো মশাই' বলে ঘাড় ধরে ঠিকটা দেখিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু আমি এটা শিক্ষার ব্যানারে প্রচার করে বেড়াই না। শিক্ষা বিনয়ী হতেও শেখায়, বোমা বানাতেও শেখায় কিন্তু কোনোটিতেও রত্নাকরের মতো দাবি বসায় না। কাপুরুষ ভীতুদের জন্য ওসব বাতেলামার্ক নীতিকথা।
'এডুকেশন অপমান সহ্য করার ক্ষমতা শেখায়' বলে পালন করতেও শেখা উচিত।
(তাই এটাও আমাকে বলা হয়েছে প্রসঙ্গে) সব কথা এভাবে গায়ে মাখলে কিছু করার নেই।
চিবিক্ত: গোঁয়ার্তুমি তুই করছিস, আমি নই। তোর কথাই ঠিক। আমারই উচিৎ এখন ঠাস করে চড় মেরে তোকে শেখানো। পালন যথেষ্ট পরিমানে করেছি বলেই বলছি অপমান সহ্য করার কথা। নিজে যা পালন করি না, তা বলিও না।
অবশ্যই গায়ে মাখবো। তুই পার্সোনালি বলবি, আর আমি পার্সোনালি নেব না? এরকম আবার হয় নাকি সোনা?
(ডেপুটিকে, ফালতু সিনেমাকে ক্রেডিট দেওয়ার প্রসঙ্গে) ৯৯% ফালতু হতে পারে। ১০০% নয়। আমি বলিউডের পতাকা ধরি না। বাট যেটা ঠিক মানতেই হবে। বলিউড ফিল্মের থেকে এট লিস্ট টেন টাইমস বেশি ফিল্ম আমি নিজেও দেখি হলিউডের। কিন্তু বলিউডের সবটাই তো আর খারাপ হতে পারে না।
চিবিক্তের হঠাৎ উপলব্ধি হয় যে তাকে এখন দুমুখো লড়াই লড়তে হচ্ছে। মিত্রপক্ষের ডেপুটিই যদি বেঁকে বসে তাহলে রণে ভঙ্গ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
লাল: (মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের একটি উদ্ধৃতি শেয়ার করে) সবকিছুর শেষে আমরা আমাদের শত্রুদের কথাগুলো মনে রাখবো না, কিন্তু মনে রাখবো বন্ধুদের নীরবতা।
(চায়না জিনিস বর্জনের প্রসঙ্গে) মোদি সরাসরি কিছু করেনি, করেনা, করবেও না। মুরোদ নেই। ২০০২-এ গুজরাটে হাজার হাজার মুসলমান খুন তো মোদি নিজে করেনি। আর আজ সাধারণ মানুষের ধ্যানধারণা তৈরি মোদি ঘরে ঘরে গিয়ে কানে কানে মন্ত্র বলে করে আসছে না। তার জন্য নানা গণমাধ্যমে টাকা ঢালছে। সেগুলো গিলে আমজনতা নিজের মতামত তৈরি করছে। সেগুলো যে মোদির বিষ্ঠা ছাড়া আর কিছু না, সে যে কেউ সুস্থ মস্তিষ্কের লোকই বলে দেবে।
(গ্রুপটার উদ্দেশ্য বোঝানোর প্রসঙ্গে) আসলে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেয়েলি মাধ্যমে অনেকদিন ছিলাম না তো তাই আর কি। আর যে কদিন ছিলাম মেয়েলিপনা সেকদিনও কম করেছি।
'এডুকেটেড মনে করা, আর সত্যিকারের হওয়ার মধ্যে পার্থক্যটা আজ হাড়ে হাড়ে লক্ষ্য করলাম' বা এই ধরণের মন্তব্য যাদের উদ্দেশ্যে করা হয়, ইতিহাস সাক্ষী আছে, তারা কোনোদিনই স্বয়ং সে দাবি করেনা।
আমিও বানাবো - বিজেপির চামচা মনে করা, আর সত্যিকারের হওয়ার মধ্যে পার্থ্যকটা...না না কোনো পার্থক্য নেই।
এবার ডিম ফোটার পালা। লালের এভাবে চিবিক্তের প্রতি নির্মম নিষ্ঠুর হওয়ার কারণ বেরিয়ে আসে।
এবার ডিম ফোটার পালা। লালের এভাবে চিবিক্তের প্রতি নির্মম নিষ্ঠুর হওয়ার কারণ বেরিয়ে আসে।
(গুগল করে ক্রিকেট রেকর্ড দেখার প্রসঙ্গ তুলে) না, আর চেপে লাভ নেই।
এই কথাটা ছিল লর্ড অফ দ্য রিংসের শয়তান বালরগ এবং এই গ্রুপে প্রথম ব্যক্তিগত আক্রমণ। এই বালরগ গ্যানডালফকে টানতে টানতে দেখো কতটা নিচে নিয়ে এসেছে। মজার কথা কথাটা আমি 'পার্সোনালি' যতটা না নিয়েছি, খেয়াল রাখো, পুরাঘটিত বর্তমান ব্যবহার করছি, অর্থাৎ এখনও আছে, তার চেয়েও বেশি নিয়েছি সামগ্রিক তাচ্ছিল্য হিসেবে। হাজার বার পড়ো, হাজার জনকে পড়াও; দিয়ে বালরগের তেজটা মেপে দেখো।
এই কথাটা ছিল লর্ড অফ দ্য রিংসের শয়তান বালরগ এবং এই গ্রুপে প্রথম ব্যক্তিগত আক্রমণ। এই বালরগ গ্যানডালফকে টানতে টানতে দেখো কতটা নিচে নিয়ে এসেছে। মজার কথা কথাটা আমি 'পার্সোনালি' যতটা না নিয়েছি, খেয়াল রাখো, পুরাঘটিত বর্তমান ব্যবহার করছি, অর্থাৎ এখনও আছে, তার চেয়েও বেশি নিয়েছি সামগ্রিক তাচ্ছিল্য হিসেবে। হাজার বার পড়ো, হাজার জনকে পড়াও; দিয়ে বালরগের তেজটা মেপে দেখো।
(কিছুক্ষণ পরে) সেদিন বলে দিলেই ভালো হতো, তাহলে এত বড়ো খাদে তলাতে হতো না। না না, এই কথাটা না, এখন যেটা বলবো সেটি। যে, গুগল করে রেকর্ডের কথা বলছো! তুমি আজ পর্যন্ত যতটা ক্রিকেট জেনেছো সবই, এই গুগল করেই, আধঘন্টাও লাগবে না আমার জানতে। এই না যে আমার বিশাল গতি, বরঞ্চ এই যে, অতিরিক্ত বেশি কিছু জানার নেই। অবশেষে অহংকার দেখিয়েই দিলাম।
কাল রাস্তার লোক বলতো, তর্কে না পারলে - 'ও তোমার পড়াশোনা নেই, যাও গিয়ে অমুক বিষয়টা পড়ো...' তো কিছু গা করিনি। এখন ঘরের লোকও যদি সুযোগ না ছাড়ে।
ডেপুটি: আমি বাদে সবাই এমন পার্সোনালি নিচ্ছ কেন? এই ভাবে ঝামেলা বাড়বে।
চিবিক্ত: ওকে। তাহলে আমাকে নিয়ে, আর আমার লেখা বা কথা নিয়ে তোর গ্রিভেন্স অনেক আগের। আমার তো মনে হয় অনেক দিনের। দেন যা করেছিস, সেসব ন্যাচারল। আর হ্যাঁ, পড়াতে বলেছিস তো অন্য কাউকে, পড়িয়েছি। বার বার পড়িয়েছি। তারপর আমার মনে হয়েছে যে আমাকে প্রত্যেক পদক্ষেপে অপমান করা হয়েছে এই গ্রুপে। আমার স্পাইন থাকলে নাকি আমি অনেক আগেই সমুচিত জবাব দিতাম এরকম কথাও শুনতে হয়েছে। এনিওয়ে, হয়তো এই দিনটার জন্যেই ওয়েট করছিলাম। সব ক্লিয়ার হলো। ওটা গুগলের লিমিটেশন বলেছিলাম, তোর গুগল করার লিমিটেশন নয়। আমি কতটা অপরাগ, কতটা নিজের লোকেদের প্রতি দুর্বল, সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলি।
আমি গ্রুপে ম্যাসেজ হিস্ট্রি রাখি না। সব ডিল করে দি। নাহলে দেখাতে পারতাম আসল ব্যক্তিগত আক্রমণগুলো এর অনেক আগেকার।
চাইনিজ জিনিস বর্জন নিয়েই বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট আর ফুটবলের কথা উঠে আসে। আমার বক্তব্য, যে যদি ১৯৮৩ ডব্লুসিয়ের কথা বাদও দি, তাহলে নিশ্চয়ই ক্রিকেট জন্মের সময় থেকেই ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম তার মর্যাদা পায়নি। সময় লেগেছিল, গভর্নমেন্ট, স্পোর্টস অথরিটি, জনগন, স্পনসররা ভরসা দেখিয়েছিল বলেই না একটা টিম দাঁড়িয়েছিল কোনও না কোনও সময়।
সেটাও তো ইন ফিউচার হতেও পারে ইন্ডিয়ান ফুটবলে। তা না করে ধুস, ওদের দ্বারা হবে না। এই বলে যদি দূরে সরিয়ে দি, তাহলে উন্নতির থেকে অবনতি হবে বেশি। আমার সব কথার বক্তব্য ছিল এটাই।
নাম আর পদবীর মাঝে, শুরুতে, শেষে যেমন অনেকের আরও অনেক নাম থাকে (শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের মতো), তেমন চিবিক্ত মুতুরও এখানে সেখানে অনেক নাম সাঁটানো যায়। একগুঁয়ে, অহংকারী, ধরি মাছ না ছুঁই পানি, বাঁচালের জলজ্যান্ত এরকম নিদর্শন দুটো খুঁজে পাওয়া ভার। মহাশয় যা দেখবেন তাই ঠিক। যা ভাববেন তাই ঠিক। যা বলবেন তাই ঠিক। শুধু শোনার ক্ষেত্রেই সব ভুল!
চাইনিজ জিনিস আজ যারা বর্জন করার কথা বলছে তারা কিন্তু সবাই মোদী অনুগামী নয়। মোদী বিরোধীও আছে। যেমন আমি। মোদী বলেছে বলে করবো এটা কখনো মনেই আসেনি, বা আসবেও না। নিজের তো একটা মস্তিষ্ক আছে নাকি। কিন্তু তা সত্ত্বেও বার বার আমাকে শুনতে হচ্ছে আমি নাকি মোদীর চামচা। এই জাস্ট একটু আগেই বললি।
কি করবি তোর এত বিদ্বেষ তিনজনের গ্রুপে ছড়িয়ে? শান্তি পেয়ে থাকলে ভালো, তুই বলেছিলি মতবাদের মিল না হলে তুই ধুয়ে দিস তাকে। তা সেটা আমার ওপর সাকসেসফুলি অ্যাপ্লাই করে নিশ্চয়ই এবারে খুশি?
ডেপুটি এখন বিভীষণ।
ডেপুটি: লাল তোমার পলিটিকাল ভিউয়ের সাথে একমত, চিবিক্তের সাথে না; সেটা তুমি বুঝতেই পারছ। কিন্তু তুমি যে বলছো তোমার উপর এখানে আগে পার্সোনাল অ্যাটাক শুরু হয়েছে, আর সেটা অনেকবার করা হয়েছে, সেটাই বুঝতে পারছি না কোথায় হয়েছে? একটু আগে তুমি একটা পোস্ট মেনশন করে দেখালে সেটা আমি বুঝতে পারলাম না এখানে পার্সোনাল আক্রমণটা কোথায়?
চিবিক্ত: ডেপুটি বললো আমার পলিটিক্যাল ভিউয়ের সাথে ও একমত না। হতেও পারে, এতে প্রবলেমের কি আছে। কিন্তু আমার ভিউয়ের সাথে একমত না হতে গেলে আগে তো আমার মতামত জানতে হবে। আমি গ্রুপে টিল নাও এমন কোনো ম্যাসেজ করিনি যা থেকে আমার পলিটিক্যাল ভিউ ক্লিয়ার হয়। চাইনিজ জিনিস বর্জনের সঙ্গে আমার মনে এবং আমার মতে পলিটিক্সের কোনও সম্পর্ক নেই। ইকোনমিক্সের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। আমার ধারণা যে শুধু চাইনিজ কেন, সব বিদেশি জিনিস আস্তে আস্তে বর্জন করতে হবে। লাগুক ২০ ইয়ার্স। যে গভর্নমেন্টই থাক। বাট করতে হবে। আমি টিএমসি, বিজেপি, সিপিএম, এদের নিয়ে কোনও খিল্লিমূলক পোস্ট করিনি। আবার যেসব খিল্লিমূলক পোস্ট হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কিছু বলিনি। শুধু নেপোটিজম আমার পছন্দ নয় সেটা বলিউডেই হোক, আর ইন্ডিয়ান পলিটিক্সে সেটাই বলেছি। সেখানেও ন্যাশানাল কংগ্রেসকে নিয়ে একটাও বিদ্বেষমূলক কথা উচ্চারণ করিনি।
তাহলে কি দেখে, বা আমার কোন মন্তব্য শুনে আমার পলিটিক্যাল ভিউস বুঝতে পারলি বল।
ডেপুটি: (চীনা বর্জনকারীরা মোদির অনুগামী নয় প্রসঙ্গে) এটা বিজেপি ছাড়াও অন্যরা বলছে। বিজেপি শুধু বলছে, করছে কিছু না। অন্যরা তাও চেষ্টা করছে।
লাল যা বলবে একটু সহজ-সরল করে বলবে। বুঝতে অসুবিধা হয়। এবার আমিও তো জানিনা, তাই কনটেক্সটগুলো ধরতে পারি না। লর্ড অফ দ্য রিংসের মতো একজাম্পল টেনে বললে কি করে বুঝবো?
চিবিক্ত: (বিজেপি বলছে, করছে না প্রসঙ্গে) ঠিক। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখ, যারা একদমই চায়না ব্যানের বিরুদ্ধে, তারা কিন্তু কোনও না কোনও দিক থেকে মোদী হেটারস অবশ্যই। তারা কোনও যুক্তি শুনতে চাইছে না। মানা না মানা তো সম্পূর্ণ নিজের ব্যাপার। সেটাই লালকে আমি বোঝাতে গেছিলাম যে মোদী বিরোধিতার সঙ্গে চায়না ব্যানকে গুলিয়ে ফেলিস না। মোদীকে হেট করছিস কর। যথেষ্ট কারণও আছে। কিন্তু চায়না ব্যানটাকে সম্পূর্ণ অন্য পার্সপেক্টিভে দেখ। আগে তো বুঝতেই পারছিলাম না যে কেন ও চায়না দের সম্পর্কে খারাপ শুনতে চাইছে না। পরে বুঝলাম কারণটা সেই পলিটিক্যাল, যে বিষয়টার পাস দিয়েও যেতে ভালো লাগে না আর। (খেয়াল আছে তো?)
যাকগে। বাদ দে। গুসসা থুক দো। অবশ্যই মাস্ক খুলে।
কে শোনে কার কথা! লালের 'থুকা' এখনও বাকি আছে।
লাল: বিজেপির চামচা হতে গেলে প্রোফাইল পিকচারে পদ্মফুল বা রিংটোনে বন্দেমাতরম দিতে হয় না। বিজেপি হচ্ছে একাধিক স্টেজের অসুখ,যেমন ক্যান্সার। তো একজন ক্যান্সার রুগীর ছবি কল্পনা করলে মুণ্ডিত মস্তক রুগ্ন ফিকে চামড়ার লোকের ছবিই ভেসে আসে, কিন্তু তা তো নয়। ক্যান্সারের যেমন স্টেজ আছে - কিছু স্টেজে যেমন টেরও পাওয়া যায় না লোকটি অসুস্থ - বিজেপির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি সেরকম। আবার ছোটো করার জন্য হাত নিশপিশ করার আগেই বলে রাখি, আক্ষরিক অর্থে পড়াশুনা করা যাকে বলে, বিজেপির ওপর গত কয়েক বছরে যেটুকু পড়াশোনা করে জেনেছি, তাতে একটুও বাড়িয়ে বলছি না, আর যেভাবে ক্যান্সার রুগীদের প্রসঙ্গে বলে - চিবিক্তের ফার্স্ট স্টেজ চলছে।একজন বিজেপির ভক্ত হওয়ার যে যে উপসর্গগুলো আছে, সবকটি তোমার মধ্যে উপস্থিত। টিপিক্যাল কেস স্টাডি বলতে পারো। স্বীকার করছি সেগুলো ভালো করে পরীক্ষা করার লোভে আরও ঘিয়ে আগুন দিয়েছি। আমার কথা উড়িয়ে দিতে পারো, কিন্তু তত্ত্ব এবং তথ্যমূলক প্রমাণ দিয়ে বলতে পারি - তুমি ভক্ত হওয়ার পথে।
কিছু উপসর্গ উল্লেখ করি।
(মমতার ভক্তদের সাথে তর্ক করবেন না প্রসঙ্গে) উপসর্গ এক, অন্যের ঘাড়ে জোর জবরদস্তি বিরোধী কোনো পার্টির তকমা এঁটে দেওয়া।
(মোদী বিরোধিতা আবিষ্কার প্রসঙ্গে) উপসর্গ দুই, সমস্ত প্রকার সমালোচনাকে মোদী বিরোধিতা বাতলে দেওয়া।
মজার কথা, তুমি 'প্রিভিয়াস চ্যাট' মুছে দিতে পারো বাকিরা না। ডেপুটি, একবার খুঁজে দেখ 'মোদী বিরোধিতা'র, আসলে বিদ্বেষ, সার্টিফিকেট কে বিলি করতে শুরু করে।
(নেপোটিজম প্রসঙ্গে) উপসর্গ তিন, দেশের যে কোনো সমস্যায়, তা সে ব্যক্তিগত কোষ্টকাঠিন্য হলেও, নেহরু-গান্ধী পরিবারকে কাঠগড়ায় তোলা।
এছাড়া ভ্রান্ত জাতীয়তাবাদ, জেনোফোবিয়া, গুগল করো, এগুলোতো আছেই।
গোঁয়ার গোঁয়ার্তুমি না করলে সে আর কিসের গোঁয়ার। কিন্তু চিবিক্ত শুরু গোঁয়ারই নয়, নির্বোধ আহাম্মকও।
চিবিক্ত: (উপসর্গ তিন প্রসঙ্গে) বলিউডের নেপোটিজম দেশের সমস্যা কি না তর্ক থাকতে পারে। কিন্তু দেশের রাজনীতিতে নেপোটিজম অবশ্যই দেশের সমস্যা। এটা ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। কোষ্টকাঠিন্যের মতন সমস্যা নিয়ে তুই হয়তো ঘৃণা উগলে দিতে পারিস। আমি কখনই তা করি না।
(উপসর্গ দুই প্রসঙ্গে) হ্যাঁ, আমি প্রিভিয়াস মেসেজ ডেল করে দি। কিন্তু মনে যে থাকে না এমন নয়। ভালো করে ওই কনভারসেশনটা রিড করলেই যে কেও বুঝে যাবে যে মোদীর কথা কে আগে তুলেছিল। তখন ব্যাপারটা আমার কাছে ক্লিয়ার হয়। পলিটিক্স নিয়ে অর মোদী নিয়ে কথা আমি আগে তুলিনি। কাজেই ধুয়ে দেওয়ার কাজটাও তুই আগে শুরু করেছিস।
(উপসর্গ এক প্রসঙ্গে) বিরোধী পার্টির তকমা তখন জুড়েছি, যখন তুই আমাকে মোদীর চামচা বলেছিস। পাটকেল নিতে না পারলে ঢিল ছুড়িস কেন?
ডেপুটি: উপসর্গ আছে মানেই ওই দিকে যাবে নাও হতে পারে। বাট চিবিক্ত, লাল যে যে পয়েন্টগুলো দিলো সেগুলো কিন্তু ঠিক। এই ভাবেই কখন যে তুমি ভক্তদের দলে চলে যাবে ধরতেও পারবে না, তোমার মনে হবে যে তুমি মোদীর হার্ডকোর সাপোর্টার না, তাও তুমি ওনাকেই ভোট দিয়ে দেবে। তারপর কিন্তু রিগ্রেট করতে হবে।
চিবিক্ত: (বিজেপির চামচা হতে গেলে প্রসঙ্গে লালকে) যদি আমি ভক্ত হওয়ার পথেও থাকি, সেক্ষেত্রেও তোর এইসব ছেঁদো যুক্তি, পিএমের প্রতি বিপুল বিষোদ্গার আমাকে আটকাতে বা ফিরিয়ে আনতে পারবে না। অত সখ তো আন্দোলন কর না। পথে নাম, রাজনীতি কর। এই তিন জনের গ্রুপে বসে ভাষণটা এবারে থামা। বাহাদুরি ভেবে যেটাকে ভুল করছিস, সেটাকে বালখিল্য বলে আর কাহাতক ভুলে থাকবো?
(ডেপুটির উপসর্গে মন্তব্য প্রসঙ্গে) সো হোয়াট? লাল আটকাবে আমাকে? যে যুক্তি দিতে গেলেই কুকথা ছাড়া বলতে পারে না। এক্সাম্পল দিতে গেলে যাকে পোঁদ, কোষ্টকাঠিন্য, নুনু এসবের আশ্রয় নিতে হয়? হা হা (হাসি)।
যদি মনে হয় যে কেউ ভুল দলকে সমর্থন করছে তাহলে হয় তাকে ধুয়ে দাও, এই অ্যাটিটিউড ঠিক নয়। কারো সঙ্গেই এইরকম করা উচিৎ নয়। যদি একজন কেও যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে ফিরিয়ে আনতে পারিস, তাহলে ক্রেডিট। আর না পারলেও চেষ্টা করেছিলিস ভাবতে পারিস।
রইলো বাকি আমার সমর্থনের কথা? সেতো শুধু আমি নিজেই জানি। উপসর্গ তো আমিও ১০টা বলতে পারি লালের ফ্রাস্ট্রেটেড হওয়ার।
গুরুজনের কথা লাল তুলেছে, আমি না। কারণ আমি গুরুজনের দোহাই দিয়ে কাউকে চুপ করিয়ে দিতে চাই নি। যদি চাইতাম, তাহলে এই গ্রুপটাই খুলতাম না। মনে হয় এই গ্রুপটা খোলাটাই সবার পছন্দ হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপ তো অনলি মেয়েলি মাধ্যম। অসাধারণ উক্তি।
ডেপুটি: এটা ঠিক বিলো দ্য বেল্ট, লাল গেছে।
চিবিক্ত: কিন্তু এটাও ঠিক যে আমি অল্প হলেও বয়সে বড়। তাই যেটুকু সম্মান এখনও আছে, সেটুকু নিয়ে কেটে পড়তে চাই গ্রুপ থেকে। কারণ মনে হয় তাতেই লাল শান্তি পাবে। মুখে বলতেও পারে আর না বললেও এটা ভাববে সিওর, যে দেখলে কেমন লেজ গুটিয়ে পালালো যুক্তি তর্কতে না পেরে। সফল হোক তোর আস্ফালন।
এই বলে মুহূর্তের মধ্যে গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যায় চিবিক্ত।
ডেপুটি: হয়ে গেলো। এটাই হবে বুঝতে পারছিলাম। এত স্ট্রং ওয়ার্ডস ইউস ্না করলে হতো না? লাল, এটা ফ্যামিলি গ্রুপ ছিল, সেটাকে অর্ণব গোস্বামীর ফালতু শো বানিয়ে দিলে।
লাল: আমি স্বীকার করছি, আমার কথায়, খাস করে রাজনীতি প্রসঙ্গে, একটা উগ্রতা আছে। এমনকি সময় বিশেষে সেটি তীব্রতার সীমা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এটাও তোকে মানতে হবে, বিজেপির প্রতি একান্ত দুর্বলতা না থাকলে কেও ওভাবে সমস্ত কথা গায়ে মেখে ঝগড়া করতে আসে না।
ডেপুটি: ঠিক আছে। এটা এইভাবে তখন বললেই হতো।
লাল: আর এই নয় যে চিবিক্তের সাথে আমারা সসম্ভ্রমে গুরুজনদের মতো ব্যবহার করি। বিজেপির সমালোচনা নিতে পারেনি, দিয়ে ন্যাকাকান্না কেঁদে লাভ আছে।
ডেপুটি: এতো বোঝো আর এইটা বোঝো না যে এটা ফ্যামিলি গ্রুপ, আর চিবিক্ত আমাদের থেকে বড়ো। এই ভাবে কথা এখানে মানায় না।
লাল: কোন কথাটা বল? নুনু? ওটা তো একটা উপলক্ষ। বরঞ্চ আমাকে ঘুরে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত শিশুটাকে হাতে ধরিয়ে দিলাম। তোর 'মাদারচোদ', 'চুতিয়া' হজম করে নিল, আর আমার 'নুনু' খিস্তি গালাগালি হয়ে গেল।
ডেপুটি: চিবিক্ত আমাদের পলিটিক্যাল এনিমি না, তাই তুমি যে ভাবে বলেছো সেটা ঠিক না।
লাল: অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে...এই ধারণায় আমি বিশ্বাসী, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।
ডেপুটি: ফ্যামিলির সাথে তাই বলে...?
লাল: কিন্তু বিজেপির চামচা যদি ফ্যামিলির চামড়া চাপিয়ে আসে তো কি করবো? ফ্যামিলিকেও সেটা বোঝা উচিত।
ডেপুটি: তুমি যা করলে, এবার সে আমদের কথা আর শুনবে? আরো ওই দিকেই যাবে। তুমি ওই দিকেই ঠেলে দিলে।
লাল: আরে ডেপুটি, তুই কি কানা? জম্বি হয়ে বসে আছে, ঘাড়ে কামড়টা এখনো বসায়নি এই যা। তুই দেখা একটা, মাত্র একটা, আমার এই হাজারো মন্তব্যে একটা, যেটা পড়ে চিবিক্ত বলেছে, হ্যাঁ ঠিক বলেছিস। তা তো বলেইনি, উল্টে লম্বা লম্বা অনুচ্ছেদ রচনা লিখে গেছে। আমি পরিষ্কার মোদী বিদ্বেষী স্বীকার করছি। তাই বলে, আমার একটা কথাও ঠিক মনে না হওয়ার কি কারণ থাকতে পারে? হয় অহংকার, নয় ভগ্নাংশের লব-হরে কাটাকুটি করে সরল করে নে, মোদী বিদ্বেষীর বিপরীতে মোদী ভক্ত।
ডেপুটি: মোদী কে ভালো লাগতেই পারে।
লাল: তো খুলে স্বীকার না করে ন্যাকামো করে লাভ কি?
ডেপুটি: একবার আমরো লেগেছিলো।
লাল: আরে আমি ২০১৪তে ভোট দিয়েছি। আর শুনবি, ২০১৪ তে আমাকে যুক্তি-তর্ক-গল্প দিয়ে কে রাজি করেছিল মোদীকে ভোট দিতে?
ডেপুটি: ওরে বোকাচোদা! চিবিক্ত?
সংলাপ এখানেই ফুরোলো, নটে গাছটি মুড়োলো। শুভ নিদ্রা আদানপ্রদানে ডেপুটি আর লালও গ্রুপ থেকে বিদায় নেয়। বিদায়ের আগে গ্রুপের নাম 'ককটেল' পাল্টে 'বেঁচে থাক' করে দেয় লাল। ডেপুটিকে আগেই জানিয়ে রাখে, গ্রুপটিকে সে স্মারক করে রাখতে চায়। কিন্তু কি বেঁচে থাক? হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নাম দেওয়ার সাথে সাথে, গ্রুপের জুতসই ছবি দেওয়ারও ব্যবস্থা থাকে। এতদিন সাধারণ একটি হেডফোন মাথায় ইমোজির ছবি ছিল। লাল তার পরিবর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের পতাকা সেঁটে দেয়, তাতে লেখা 'চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান'।
পুনশ্চ: অপরাধী অবশ্যই লাল। অহিংস একজনকে, তা সে যতই মুসলিম ভীতু চীন বিরোধী ভক্ত হোক না কেন, এভাবে নাকানিচোবানি খাইয়ে হেনস্থা করার জন্য নয়; একটা পাগলা শুয়োরকে পোঁদে গরম আংটার ছ্যাঁকা দিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার জন্য। পাঠক সাবধান! আপনার ফোনে চাইনিজ অ্যাপস নেই তো?
(সমাপ্ত)