চার
একবার কাউকে ঝাঁটা পেটাতে শুরু করলে থামতে ইচ্ছে করে না। যুবতী মেয়ের ভূত হোক কিংবা পতিদেবতার আলুর দোষ, ঝেঁটিয়ে বিদেয় করতে কার না ভালো লাগে। চিবিক্তের মধ্যে যে ভক্তের ভূত ভর করেছে, তা জানতে পেরে লালের ভিতরের ওঝাটাও জেগে ওঠে। আর সে থামছে না। কাউকে থামতেও দেবে না।
৬ই জুন চুপচাপ কেটে যায়। তবে ডেপুটির খুচরো মিমস শেয়ার চলতে থাকে। পরেরদিনও বাকিদের চুপচাপ দেখে আর থাকতে না পেরে, ঝাঁটা থেকে একটা কাঠি খসিয়ে চিবিক্তকে খোঁচাতে শুরু করে দেয় লাল।
৭ই জুন
লাল: কি রে ডেপুটি, চীন হোয়াটসঅ্যাপেও টাকা ঢাললো নাকি?
ডেপুটি: জানি না। সব কিছুতেই চায়না চলে এসেছে।
লাল: চল তাহলে প্র্যাকটিস শুরু করে দিই - কিলাই বুয়ান জুও নুলি দি রেনমেন, বা উমেন দি জিওরু জুচেং...
ওপরের দুর্বোধ্য শব্দগুলি চীনের জাতীয় সঙ্গীতের অংশ।
ডেপুটি: (হেসে) চিবিক্ত ক্ষেপে যাবে!
এই তো, যথেষ্ট! কাঠিটি ফের ঝাঁটায় গুঁজে নেয় লাল।
চিবিক্ত: মমতার ভক্তদের সাথে তর্ক করবেন না, মোদি হেটার দের প্রতি সহানুভূতি দেখান। মনে রাখবেন আমাদের রোগের সাথে লড়তে হবে, রুগীর সাথে নয়। জনস্বার্থে প্রচারিত (হাসির চেষ্টা)।
লাল: আমি তো গু খায় (মোদিকে সমর্থন করি), তাহলে তুইও নিশ্চয় গু খাস (বিরোধী নেতাকে সমর্থন করিস), এই মানসিকতা নিয়ে চীনকে জব্দ করতে চলেছে ওপো-ভিভো টিকটকবাসী, মানে ভারতবাসী।
যদিও আমি মমতা ব্যানার্জির সমর্থনেই থাকবো, যতদিন তিনি বিজেপি আর সঙ্ঘের বেনো জল বাংলায় ঢোকা থেকে ঠেকিয়ে রাখবেন। কিন্তু ঘরের শত্রু বিভীষণগুলোর কি ব্যবস্থা করা যায় সে নিয়ে ভাবতে হবে।
চিবিক্তের পদবীটি বলা হয়নি। চিবিক্ত মুতু। চিন বিরোধী ভক্ত মুসলিম ভীতু। মুসলিম ভীতিটি বিয়ের যৌতুক। একসময় বলতে শুনেছি, হিন্দু ধর্মকে সংকটে ফেলতে বদ্ধপরিকর ভারতের সমস্ত মুসলমান নাকি তাদের হিন্দু বন্ধুদের গোরুর মাংস খাওয়ানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ভারতবর্ষে মুসলিম ৬০ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গে ৮০। ২০২৯শে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছে একজন মুসলমান। তাই ধর্মপ্রাণ চিবিক্ত মুতু সস্ত্রীক পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতবর্ষকে মুসলমান শাসন থেকে মুক্ত করতে গোপনে লড়াই চালাচ্ছে। লাল এইসব ভালোকরেই জানে। তাই সে দিক থেকেও কাঠি করতে চেষ্টা চালায়।
চিবিক্তের পদবীটি বলা হয়নি। চিবিক্ত মুতু। চিন বিরোধী ভক্ত মুসলিম ভীতু। মুসলিম ভীতিটি বিয়ের যৌতুক। একসময় বলতে শুনেছি, হিন্দু ধর্মকে সংকটে ফেলতে বদ্ধপরিকর ভারতের সমস্ত মুসলমান নাকি তাদের হিন্দু বন্ধুদের গোরুর মাংস খাওয়ানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ভারতবর্ষে মুসলিম ৬০ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গে ৮০। ২০২৯শে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছে একজন মুসলমান। তাই ধর্মপ্রাণ চিবিক্ত মুতু সস্ত্রীক পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতবর্ষকে মুসলমান শাসন থেকে মুক্ত করতে গোপনে লড়াই চালাচ্ছে। লাল এইসব ভালোকরেই জানে। তাই সে দিক থেকেও কাঠি করতে চেষ্টা চালায়।
ইসঃ! যদি বাংলায় এক শেখ আব্দুল্লা বা মুজিবুর রহমানের মতো লিডার থাকতো।
কিন্তু ব্যর্থ হয়। আলোচনা আবার সেই সিনেমা, ওয়েব-সিরিজের দিকে ঘুরে যায়।
দিন পাঁচেক অপেক্ষার পর অন্য দিক থেকে আক্রমণের ছক কষতে শুরু করে দেয় লাল। এদিকে চিবিক্তও বেশ কায়দা করে গা বাঁচিয়ে আসছে। লালের প্রত্যেক উস্কানিমূলক মন্তব্য সাফল্যের সাথে অবজ্ঞাভরে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু কতক্ষণ?
আগেই বলেছি, লকডাউনে চিবিক্ত মহাশয় নাকি ৫৪ খানা ওয়েব সিরিজ দেখেছেন। লকডাউনে লালও রামচন্দ্র গুহের লেখা সদ্যপ্রকাশিত গান্ধীজীর একটি জীবনী পড়ে। সেটা জানানোর সুযোগে লাল চিবিক্তকে আবার খোঁচা দিতে শুরু করে।
লাল: (বইটির ছবি দেখিয়ে) সংখ্যা-সংস্কৃতির সাথে একান্ত তাল মেলানোর তাগিদে ভাবছি কোন সংখ্যাটি ব্যবহার করবো! ১১০০+ (পাতা), ৯৯৯ (দাম), ৩৩ (বছরের গান্ধীর জীবনী, মাত্র), নাকি নিছক ২ (মাস ধরে পড়লাম)? বড়ো আক্ষেপের সাথে স্বীকার করছি, হালফিল যুগের হালচাল বিচার করে, যে উপযুক্ত সংখ্যাটি হবে ১ - এক, একটি মাত্র হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ড - যা ক্ষমতা রাখে দশকের অক্লান্ত গবেষণার পরিণতি এই বিশালায়তন বইটিকে মুহূর্তে নস্যাৎ করে দেওয়ার; পাঠকের প্রজ্ঞা তো কোথাকার ছাড়!
খোঁচায় কাজ দেয়। কিন্তু চিবিক্ত ঠিক কি বোঝাতে চায় বোঝা যায় না।
চিবিক্ত: অ্যাবসলিউটলি রাইট। অ্যান্ড দিস ইস দ্য ওয়ান পোস্ট ইন হোয়াটসঅ্যাপ। (সাথে গান্ধীজীর তিনটি বানরের - একটি অন্যায় দেখে না, অন্যটি অন্যায় শুনে না এবং অপরটি অন্যায় বলে না - ইমোজি পাঠায়)
লাল: গান্ধীজিকে যেটুকু জানলাম, তা থেকে বলবো, গান্ধীজির তিনটি জনপ্রিয় বাঁদরের একটিরও নীতি সম্পূর্ণরূপে পালন করতে পারেননি। একবার না একবার জীবনের কোথাও পদস্খলন ঘটেছে। যতই হোক তিনিও তো একজন মানুষই ছিলেন। তবে হ্যাঁ, যদি এমন একটি বাঁদর থাকতো, যে তার যৌনাঙ্গ চেপে বসে আছে, তাহলে বলা যেত তার নীতি গান্ধীজি আমৃত্যু পালন করেছেন (অবশ্যই ব্রহ্মচর্য গ্রহণের পর)।
(কিছুক্ষণ পর ক্রিকেটের প্রসঙ্গ টেনে) প্রায় তিন দশক হয়েছে মারা গেছেন, নইলে কড়া একখানা ই-মেইল পাঠিয়ে ভালো করে ধ্যাতানি দিতাম ব্রিটিশ সাংবাদিক জন আর্লটকে। বলিহারি লোক বটে! না মানে, ১৯৫০-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফরের ওপর স্মৃতিচারণমূলক আর্টিকেল লিখতে বসে খালি রেকর্ডের কথা বলবে, তা না, মাঠে উপস্থিত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দর্শকদের উচ্ছ্বাস বর্ণনা করতে লেগে গেছে। ঠিক আছে, মানছি আবেগের বশে না বলে থাকা যায় না। তাই বলে সেগুলো গুগলে ছেড়ে দিতে হয়! খুব জোর পরিবার পরিজন বা বন্ধুবান্ধবদের বলতে হয় যাতে তারা সময় বিশেষে অপরকে বলতে পারে অবশ্যই একচেটিয়া মালিকানার সাথে। নইলে আলি-আলামিন-আকবর যে কেউ পড়ে জেনে যাবে যে।
গতবারের বইমেলায় এক বন্ধুর সুপারিশে উজ্জ্বল চক্রবর্তীর লেখা 'পদ্মরাগের অভিযান' কেনার পর পাশে দাঁড়ানো বন্ধুটি রীতিমতো সকলকে শুনিয়ে যে কথাটি বলেছিল, তা আমার সারা জীবন মনে থাকবে। সে বলেছিল - 'যাই হোক, তোর কাছে স্বয়ং উজ্জ্বল চক্রবর্তীর অটোগ্রাফ দেওয়া কপিটা তো নেই...যেটা আমার কাছে আছে।'
চিবিক্ত: পদ্মরাগের অভিযান। এই বইটা কি নিয়ে লেখা? মানে কিসের গল্প বা উপন্যাস?
অনবদ্য ভঙ্গিতে তর্ক থেকে গা বাঁচিয়ে নেয় চিবিক্ত। এমনকি তার ফলে লালও হাল ছেড়ে দেয়। ঝাঁটাটিকে আপাতত বিছানার তলায় রেখে, বাকিদের সাথে সুস্থ আলোচনায় যোগ দেয়। সিদ্ধান্ত নেয়, ফের চিবিক্ত বাড়াবাড়ি না করলে, লালও বাড়াবাড়ি করবে না। এভাবেই চলতে থাকে কিছু দিন। কিন্তু দিন চারেক পর পরিস্থিতি বিগড়ে দেয় ডেপুটি।
(চলবে)
No comments:
Post a Comment