হরিশ্চন্দ্রের গল্প[১] সকলেরই জানা। মুনি বিশ্বামিত্রের সাথে বাওয়ালি মারতে গিয়ে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। কিন্তু তার সূত্রপাত কোথায়, সম্ভবত অনেকেই সেটা জানেন না। বলি তাহলে?
____________________
[১]হরিশ্চন্দ্রের দানধ্যানের দেমাগ দেখে বিশ্বামিত্র তার কাছে গোটা পৃথিবী দাবি করে বসে। প্রতীকী স্বরূপ তিন তোলা (ভরি) মাটি হস্তান্তরিত হলে, কুটিল (এবং কুপিতও - কারণ উপরিলিখিত) বিশ্বামিত্র 'দানের দক্ষিণা' (কন্যাদানের দক্ষিণা যেমন পণ) হিসেবে সাত কোটি স্বর্ণমুদ্রা দাবি করে। দে এবার কোথা থেকে দিবি! ফেঁসে যায় আত্মতুষ্ট হরিশ্চন্দ্র। বৌ-বাচ্চাকে রীতিমতো বিক্রি করে সাত কোটি সোনা জোগাড় করতে হয় তাকে। বারাণসীর ঘাটে মড়া পুড়িয়ে, এঁটোকাঁটা খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছিল। সাধের নামও গিয়েছিল পাল্টে - হরিশ্চন্দ্র থেকে হরিদাস। এখানেই দুর্দশা শেষ হয়ে যায়নি। বৌ শৈব্যা ছেলে রুহিদাসকে নিয়ে এক ব্রাহ্মণের ঘরে ঝিয়ের কাজ করতো। রুহিদাস একদিন বনে ফুল তুলতে গেলে সাপের কামড় খেয়ে বেঘোরে মারা পরে। গরীবের মড়া পোড়াতেও ঝামেলা। শ্মশানের ডোম ৫০ কাহন (৪ কাহনে ১ টাকা) দাবি করে। ডোম আর কেউ না, স্বয়ং রাজা হরিশ্চন্দ্র ওরফে হরিদাস। পূর্বস্মৃতি ধুয়ে-মুছে একাকার। শৈব্যার কাকুতিতে অবশেষে জ্ঞান ফেরে। মা-বাবা মড়া সন্তান নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিতে যায়। ফাঁপরে পড়ে ধর্মরাজ (ইন্দ্র না, যম) মধ্যস্থতা করে। রুহিদাসের প্রাণ ফিরে আসে। ঘটনাটা রাষ্ট্র হলে, চাপে পড়ে বিশ্বামিত্র হরিশ্চন্দ্রকে তার রাজ্যশাসন ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। হ্যাপি এন্ডিং।