Saturday, 9 January 2021

রামায়ণের গল্প ১

জানিনা ঠিক কোন মালটা - সেকালের বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ, নাকি তাকে ল্যাং মেরে রাজা হওয়া তারই সভাসদ দনুজমর্দ্দন (দত্যিদানো টাইট করেছে, নামেই) গৌড়েশ্বর গণেশ, নাকি পরবর্তী শাসক রুকনউদ্দিন বারবাক শাহ - তবে এদেরই একজনের রাজসভায় ছন্দের কেরামতি দেখিয়ে নাম কামিয়েছিল জনৈক সভাসদ ভৈরব ওঝার ভাইপো, নদীয়ার ফুলিয়াগ্রামের কবি কৃত্তিবাস ওঝা[১]। কিন্তু রাজা তাকে রাজপণ্ডিতের সম্মান দিতে চাইলে, চার মেয়ের বাপ মিনসে কৃত্তিবাস ঢং দেখিয়ে বলে - "কারো কিছু নাহি লই করি পরিহার।/ যথা যাই তথায় গৌরব মাত্র সার।।" তোর ব্যাপার! এদিকে রগড় করতে রাজাও কম যায় না - হাতে ধরিয়ে দিল হাতি পোষার কাজ। "সন্তুষ্ট হইয়া রাজা দিলেন সন্তোক।/ রামায়ণ রচিতে করিলা অনুরোধ।।" আর যায় কুথি, "বাপ মায়ের আশির্বাদ গুরুর কল্যাণ" নিয়ে কৃত্তিবাস ওঝা "রাজাজ্ঞায় রচে গীত সপ্তকাণ্ড গান।"[২]


____________________

[১]বাঙালি ব্রাহ্মণদের আদি নিবাস পূর্বের রাঢ়ভূমি এবং উত্তরের (মালদার) বারিন্দ অঞ্চল। রাঢ়ি এবং বারেন্দ্রি ব্রাহ্মণদের পদবী ঠিক হতো তাদের গ্রাম বা পরগণার নামে। তাই ভাদর গ্রামের ব্রাহ্মণরা পরিচিত হল ভাদুরি নামে (অর্থাৎ পদবীতে), কুশ গ্রামের ব্রাহ্মণরা কুশারি (যা ভবিষ্যতে হবে পিরালী, পরে ঠাকুর), গাঙ্গুল গ্রামের ব্রাহ্মণরা (উপাধ্যায় যোগ করে) পদবী রাখলো গঙ্গোপাধ্যায়। বর্ধমানের চাটুতি পরগণার ব্রাহ্মণদের এক দল যেমন পদবী ঠিক করলো চট্টোপাধ্যায়, তেমনই আরেক দল ঠিক করলো চট্টরাজ। এরকমভাবেই বাঁকুড়ার অম্বিকা পরগণার মুখুটি গ্রামের ব্রাহ্মণদের পদবি মুখুটি - তাতে উপাধ্যায় জুড়ে হয় মুখোপাধ্যায়। এই মুখোপাধ্যায়ের এক দল নদীয়াবাসী হলে পদবী থেকে ভিটা গ্রামের মুখুটি ঝেড়ে ফেলে কেবল উপাধ্যায়টা ধরে রাখে। উপাধ্যায় পরবর্তীকালে লোকমুখে বিকৃত হয়ে হয় ওঝা।

[২]নানা মুনির নানা মত। অনেকের মতে কৃত্তিবাস ওঝা তার গুরু আচার্য দিবাকরের পরামর্শে সাধারণ পাবলিকের কথা ভেবে রামায়ণের পাঁচালী লিখতে শুরু করে; গৌড়েশ্বর করেছিল কেবল পৃষ্ঠপোষণ।

No comments:

Post a Comment