উত্তর কলকাতার নারুলা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মেয়েদের হোস্টেলের ঘটনা। হোস্টেল মানে বেলা বারোটায় ভোর। তার ওপর আজ আবার রবিবার। তাই কাকভোরে হোস্টেল চত্বর বেশ শুনশান। ঘরে ঘরে ঘুম কামড়ে পড়ে আছে জোড়া-জোড়া মেয়ের দল। দোতলায় কোনোও এক কোনে সুপারিটেন্ডেন্টের রুম। তিনিও ঘুমে আচ্ছন্ন। খালি একটি বাথরুমফেরত মেয়ে ঢুলুঢুলু চোখে ঝিমোতে ঝিমোতে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ থমথমে পরিবেশটির বারোটা বাজিয়ে লোকাল থানার জিপ এসে দাঁড়াল হোস্টেলের সামনে। ঢুলুঢুলু মেয়েটি অপ্রত্যাশিত চমক পেয়ে এক ব্যাঙলাফে নিজের রুমে ঘাপটি মারল। জিপ থেকে নেমে দাঁড়ালেন কামারহাটি থানার সাব-ইন্সপেক্টর এবং দুই তাগড়াই কনস্টেবল। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব ‘যাস্ শালা’ বলে রীতিমতো অবাক হয়ে কিছুক্ষণ
এদিক ওদিক মুণ্ডু হিলিয়ে যখন বুঝলেন, আওয়াজ না দিলে কেও রা করবে না, তখন এক কনস্টেবলকে হুকুম দিলেন – ‘হর্ন মারো।’
হর্নের আওয়াজে ফুটপাতের দুএকটি চিৎপটাং কুত্তা চমকে মাথা তুলে পিটপিট করে চাইতে থাকল। প্রায় সবকটি রুম থেকে একা-আধ এলোকেশী উঁকি দিতে থাকে। সবার চোখে কৌতূহল – পুলিশ কেন? কিছুক্ষনে হোস্টেল সুপারও ব্যাজারমার্কা মুখ নিয়ে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। নিচে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজেকে যথারীতি সামলে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে নিচে নেমে আসেন।
‘কি কোনও সমস্যা...’, কথা শেষ হতে না হতেই, সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব গম্ভীর মুখে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি এই হোস্টেলের সুপারিন্টেনডেন্ট?’
- আজ্ঞে হ্যাঁ।
- ম্যাডাম, আপনার হোস্টেলে কি ইন্দিরা মাইতি বলে কোনও মেয়ে থাকে?
- আজ্ঞে হ্যাঁ।
- আমাদের থানায় খবর এসেছে, কাল সন্ধ্যে থেকে মেয়েটি নিখোঁজ। সে ব্যাপারেই আমরা তদন্ত করতে এসেছি।
কিছুক্ষণের জন্য থ মেরে সুপার ম্যাডাম মাথার মধ্যে চটজলদি কয়েকটি জিনিস সাজিয়ে গুছিয়ে নিলেন – ‘মাগী লা-পতা। কোথায় মরল কে জানে! যাই হোক, কাল সন্ধ্যেয় মাসীর বাড়ি যাওয়ার ফিকিরে লিভ রেজিস্টারে সই করেছিল, সে পুলিশ চাইলে দেখতে পারে। মাগীর বাড়ি থেকে বা মাসীর বাড়ি থেকে হোস্টেলে কোনও ফোন আসেনি। এমনকি হোস্টেলের কোন মেয়েও তার লা-পতার ব্যাপারে কোনপ্রকার কাইকুই করেনি, অর্থাৎ পুলিশ জানতে চাইলে নির্দ্বিধায় বলা যায়, ‘না, আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানি না।’’
‘...তা ম্যাডাম’, সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবের ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সুপার ম্যাম মুখ ফস্কে আগেভাগেই বলে ফেললেন
- আমরা এব্যাপারে কিছু জানি না তো
- যা বাব্বা। আমি কিছু জিজ্ঞেস করলাম কই!
- (নিজেকে সামলে নিয়ে) না মানে, ওই মানে, ইন্দিরা তো গতকাল মাসীর বাড়ি যাবে বলে ছুটি নিয়ে বেরিয়ে গেছে তারপর আমার কাছে সেরকম তো কিছু খবর আসেনি।
- মাসীর বাড়ি কি কলকাতাতেই?
- হ্যাঁ মাসীই তার লোকাল গার্জেন। বাড়ি তো সেই বীরভূম। তা ইনস্পেক্টরবাবু, আপনাকে কে খবর দিল ইন্দিরাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না?
- একটা পাবলিক বুথ থেকে আজ ছটার সময় ফোন আসে। একজন গম্ভীর গলায় ইন্দিরা মাইতির পরিচয় দিয়ে তার নিখোঁজের খবরটি দেন। তিনি নিজস্ব পরিচয় কিছু দেননি, কেবল বললেন এই হোস্টেলের পাশেই থাকেন। ভোর বেলায় দেখলেন নাকি, হোস্টেলে ইন্দিরা মাইতিকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে হুলুস্থুলু পড়ে গেছে, তাই আর কি ফোন করে দায়িত্ব পালন করলেন।
- আর আপনারা সেই শুনে ছুটে চলে এলেন!
- দেখুন ম্যাডাম, মেয়েটি যদি মাসীর বাড়িতেই থাকে, তাহলে ভালো। হেনস্থা হজম করে চুপচাপ কেটে পড়ব। কিন্তু যদি সত্যিই নিখোঁজ হয়, এবং পুলিশ তা জেনেও কোনও গাফিলতি না করে, তবে পরে তো সেই আপনারাই বদনাম রটাবেন। তাই সময় নষ্ট না করে এক্ষুনি ইন্দিরা মাইতির মাসীর বাড়িতে যোগাযোগ করুন।
‘করছি’ বলে সুপার ম্যাম সোজা নিজের রুমে চলে গেলেন। এদিকে এলোকেশীর দল সুলক্ষণা সেজে ছাদের বারান্দায় ভিড় করে দাঁড়িয়েছে। যথারীতি গুনগুন শুরু হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত বদনে গুটিগুটি পায়ে নেমে এলেন সুপার। এতক্ষন ধরে সমস্ত তামাশাই গোগ্রাসে গিলছিল মেয়ের দল। সুপারের খিচড়ে যাওয়া মুখ দেখে সবাই নড়ে চড়ে বসল – ফষ্টিনষ্টির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে মনে হচ্ছে। ভিতরে উৎফুল্ল, বাইরে বিরস মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একদল মেয়ের নজর এখন খালি চত্বরে খাঁড়া দুটি প্রাণীর দিকে। পারলে দু’একজন হাততালি দিয়ে ওঠে! কিন্তু কেন?
সুপারের থোবড়া দেখেই সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবের আর কিছু বুঝতে বাকি থাকল না। তিনি বললেন
- দেখলেন মিসেস...
- মিসেস করন। রীতা করন।
- ইয়েস, মিসেস করন, আমার কাছে তাহলে পাকা খবরই এসেছে।
- ইন্দিরা মাসীর বাড়ি যায়ই নি। এমনকি যাবে এরকম খবরও দেয়নি। ইন্দিরার মেসোর সাথে আমার কথা হয়। উনাকে পুরো ব্যাপারটা জানালাম। এবং ইন্দিরার বাড়িতে জানাতে আপাতত মানা করলাম। আচ্ছা, ইনস্পেক্টর, ইন্দিরা ওর বাড়িতেও তো চলে যেতে পারে?
- তাহলে তো মিথ্যে কথা বলার দরকার ছিল না। আর এ তো আপনার বেলুড়ের রামকৃষ্ণ মিশন না, যে যখন খুশি বাড়ি যাওয়ার নিয়ম নেই বলে, সুপারকে টুপি পরিয়ে পালাতে হবে!
- সেটিও ঠিক কথা। তবুও একবার খোঁজ নিয়ে দেখলে হতো না...
- অবশ্যই হতো। কিন্তু এখনই আমি বা আপনি খোঁজ নিলে বাড়ির লোক ফিট হয়ে যেতে পারে। তার চেয়ে ভালো হয়, আপনি ইন্দিরার মাসী বা মেসো কে বলে চালাকি করে খোঁজ নিতে বলুন। ততক্ষনে আমি চারপাশে কুইক ইনভেস্টিগেশানটা সেরে নিই।
‘সেই ভালো, সেই ভালো’ বলে সুপার ফের উপরে উঠে নিজের রুমমুখো হলেন। বাকি কোনও মেয়ের প্রতি আপাতত তার কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই।
‘আচ্ছা স্যর, মেয়েটির ফোনে একবার...’ বলে রতন কনস্টেবল কিছু বলতে যেতেই, সাব-ইন্সপেক্টর তাকে থামিয়ে দিয়ে বিরক্তির সাথে বলেন, ‘উফঃ রতন। ওসব আদ্যিকালের ব্যাপারগুলো নিয়ে কেন যে মাথা ঘামাও, বুঝে পাই না! তোমার কি মনে হয়,মিসেস করন মেয়েটির মাসীর বাড়ি ফোন করার আগে একবার খোদ মেয়েটির নম্বরে ফোন করে দেখবেন না? আর ফোন সুইচ অফ থাকবে, সে তো সস্তা গল্পের প্লট। হ্যাঁ, মিসেস করন আসুক, দরকার পড়ে তো ট্র্যাক করার জন্য নম্বরটি নিয়ে রাখব। তা সে সব পড়ে হবে, আগে চল রাস্তার দুএকজনকে কিছু পুছতাছ করি।’ এই বলে পুলিশ তিনজন তাদের জিপ রেখে হোস্টেলের কাছেপিঠে এলাকায় তদন্ত করতে চলে গেলেন।
এদিকে মেয়েদের মহলে যথেষ্ট উত্তেজনা। কিডন্যাপ থেকে শুরু করে রেপ, খুন সমস্ত সম্ভাবনাগুলোই পাতে পাতে আলোচনা হয়ে গেছে। কেবল কয়েকজন একটু সন্দেহজনক কথাবার্তা বলছে। যেমন রেবা বলে এক নেত্রীটাইপ মেয়ে বলল – ‘কাল বিকেলে সেজেগুজে গটগটকরতে করতে বেরচ্ছিলেন মহারাণী। আমি সামনে পড়ে জিজ্ঞেস করায় বিরক্তি দেখিয়ে বলল ঠিকই মাসীর বাড়ি যাচ্ছি, কিন্তু আমি বলি কি, অত সাজগোজ করে মাসীর বাড়ি যাওয়ার কি আছে?’ ব্রতী বলে আরেকটি মেয়ে, যার কি না নিজেরও ঘন ঘন মাসিপিসির বাড়ি যাওয়ার স্বভাব আছে, সেও দেখি সাঁয় দিয়ে বলল – ‘আমি তো দেখি কাকে ফোনে চাপা গলায় কোথায় যেন অপেক্ষা করার কথা বলছিল।’ সোমা সূত্রধর বলে একজন সেই সূত্র ধরে বলল, ‘তাহলে মনে হয় সেখানেই কিছু গোলমাল হয়েছে...’ বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই বিচার বিশ্লেষণ চলতে থাকল। হঠাৎ একজনের খেয়াল হল, ‘আরে বৈশাখী কোথায়?’ বৈশাখী, ইন্দিরার পরম মিত্র এবং রুমমেট, গলাগলি বন্ধুত্ব, মাখামাখি বোন-বোন সম্পর্ক। বৈশাখীকে এক কোনে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে দেখা গেল। মুখে যেন কে পেদে দিয়েছে। কোনোপ্রকার আলোচনাতেই তার বিকার নেই। ‘হ্যাঁরে বিশা, তোর বোনটা গেল কোথায়?’ বলে একজন প্রশ্ন ছুড়ল। বৈশাখীর কোনোপ্রকার নাটক শুরুর আগেই চত্বরে যেন বোমা পড়ল। উত্তেজিত গলায়, ‘...আমার কি কোনও প্রাইভেসী নেই?’ বলতে বলতে সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবের সাথে ইন্দিরার প্রবেশ। ওদিকে দেখা যাচ্ছে তামাসা দেখতে রাস্তাঘাটের কিছু হাবাগোবাও এসে জড়ো হয়েছে। কেচ্ছা-তামাসার গন্ধ এদের নাকে নাকে বাজে। ‘এই তো...এই তো...এই তো...’ বলতে বলতে সুপার নেমে এলেন নিচে। মেয়েমহল ফের নিজেদের পজিশন নিয়ে নিল। ইনস্পেক্টর সাহেব প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘তবে তুমি বলবে না যে কাল রাত্রে কোথায় ছিলে?’ ইন্দিরার নাটুকে বিরক্তিমার্কা উত্তর,
- সে কৈফিয়ত আমি আপনাকে কেন দেব?
- একে কৈফিয়ত নয়, পাতি জবাবই বলে। কৈফিয়ত তো তুমি এবার দেবে তোমার সুপারকে, যে মাসীর বাড়ির নাম করে অন্য কোথায় গিয়েছিলে?
সুপার এবার গলা ছাড়লেন। একনিষ্ঠ দায়িত্ববান হোস্টেল তত্ত্বাবধায়কের ভঙ্গিতে ইন্দিরাকে শো-কজ করলেন, ‘ইন্দিরা তুমি আমার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছ। তোমাকে বলতেই হবে, তুমি কোথায় ছিলে সারারাত? এটা হোস্টেলের রেপুটেশনের ব্যাপার।’ শেষ কথাটা হয়তো বলতেন না, কিন্তু রাস্তার লোকজন যে হারে ভিড় জমাচ্ছে, সে দিক বিচার করেই গা বাঁচালেন।
ব্যাপারটা আপাতত পরিষ্কার হয়ে গেল, যে হোস্টেলের প্রতিবেশী মহাশয়টি যথারীতি রসিকতা করেছে। হ্যাঁ, এটা সত্যি, ইন্দিরা মাইতি মাসীর বাড়িতে পা ও রাখেনি। সারারাত ধরে অন্য কোথাও ঘাপটি মেরে ছিল। তাতে পুলিশের নাক গলানোর কিছু নেই। কিন্তু প্রতিবেশী মহাশয় সেটি কোনওভাবে জানতে পেরে হাটে হাড়ি ভাঙার পরিকল্পনা করেন। কাঠিকরা বাঙালীর অভাব আছে থোরাই। কিন্তু কেনই বা তিনি এমন করতে গেলেন? কিসের স্বার্থ?
ইন্দিরার মুখচোখ শুকিয়ে যেন চৈত্র মাসের নালা হয়ে গেছে। ‘না মানে...না মানে’র ফিট ধরেছে বোধহয়। প্রায় খান সাতেক ‘না মানে’ আওড়ে ককিয়ে ককিয়ে উত্তর দেয়, ‘না মানে এক বন্ধুর কাছে গিয়েছিলাম।’ ছেলে বন্ধু না মেয়ে বন্ধু, হঠাৎ তো আর জিজ্ঞেস করা যায় না, তাই সুপার প্রশ্ন ছাড়লেন – ‘নাম কি?’
ইন্দিরা কি ঢপ ঝাড়ছে? বৈশাখী ছাড়া যে মেয়ে এক পাও নড়ে না, সে মেয়ে বন্ধুর বাড়িতে গোটা রাত আমোদ করে চলে এল। তাও আবার মাসীর বাড়ি যাওয়ার মিথ্যে বলে! না চাঁদু, কেও মানবে না এ কথা।
কিন্তু সবাইকে অবাক করে নাটকের হিরোইনের মতো মাঝ মাঠে এসে দাঁড়াল মিতা। ইন্দিরারই সহপাঠী। কোনোপ্রকার ভূমিকা ছাড়াই এক নিঃশ্বাসে সপাট জানিয়ে দিল, ‘আমার কাছেই সারারাত ছিল ইন্দিরা। ও মাসীর বাড়িই যাচ্ছিল। আমার সাথে রাস্তায় দেখা। আমার মেসের সবাই বাড়ি চলে গিয়েছিল বলে আমিও ওকে জোর করে নিয়ে যায়। এই, এই ওকে আবার পৌঁছে দিয়ে গেলাম...’ ইত্যাদি। ইত্যাদি।
‘ও দেখ কাণ্ড!’ পরিস্থিতি বুঝে আর কিছু ধানাইফানাই করলেন না সুপার ম্যাডাম। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবেরও নেয়ে খেয়ে কাজ নাই, যে হতচ্ছাড়া মেয়েগুলোকে নিয়ে অতিরিক্ত নাচোনকোদন করবেন। তাই তিনিও ক্ষান্ত দিলেন। ‘যান...যান আপনারা। কেটে পড়ুন। কেটে পড়ুন।’ বলে লোক ভাগিয়ে তিনিও সদলবলে বিদায় নিলেন। যাওয়ার সময় বলে গেলেন, ‘আমি খোঁজ লাগাচ্ছি...কে এই তামাশাটি করেছে।’
আসল তামাশাটি কি ভেতর ভেতর সবই টের পেল ইন্দিরা। মনে মনে বলল, ‘কোন হারামির পোঁদ জ্বলছিল যে আমাকে ফাঁসাতে গেল...’
সুপার ম্যাডাম কিছু টুঁশব্দ না করে গটগট করে উপরে উঠে গেলেন। ‘হচ্ছে আজকে’, এই টাইপের ভাব। মেয়েরাও যে যার রুমে। আজ বাকিটা দিন কানাঘুষোই চলবে। কয়েকজন তাদের নিয়মিত মাসীপিসির বাড়ি যাওয়ার জন্য তৈরি হতে থাকে। বৈশাখী মেয়েটিও একটু ধাতস্থ হয়। ভেতরে ভেতরে কার মনে কি চলে, সে ভগবানই জানে!
ফ্যালফ্যাল করে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর, ইন্দিরা টের পায়, মিতা এখনও তার পিছনে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে, যেন মিচকি মিচকি হাসছে। মিতা এই তামাশার খবর পেল কি করে? ও বুঝেছি!
‘তো মিতা মাগীরই যতসব ফন্দি...’,ইন্দিরা কথাটা মনে মনে বলল ঠিকই, কিন্তু মিতা যেন শুনতে পেয়ে শান্ত গলায় উত্তর দিল –
- সে এতক্ষণে টের পেলি?
- তবে তুইই ফোন করে...
- আমি ঠিক না। ফোনটি করেছিল অভিষেক। গলা ভারী করে।
- আমার ব্যাপারে ইন্টারফেয়ার...
- কিসের ইন্টারফেয়ার শুনি। তুই সাধাসিধে ছেলেগুলোকে এভাবে নাচাবি, আর আমরা বসে বসে দেখব? আর রাতবিরেতে ফষ্টিনষ্টি করে বেরবি, দিয়ে কলেজ আর হোস্টেলের নাম খারাপ করবি...এ চলবে না খুকুমণি। এসব করতে ইচ্ছে হয় তো বাবার হোটেলে গিয়ে কর...
- পুলিশকে বলব, তোরাই ফোন করে ইয়ার্কি মারছিলি...
- চল! চল! আমিও গিয়ে বলি যে আমি মিথ্যে বলছিলাম। তুই আমার কাছে ছিলিসই না। ভাঙুক হাটে হাড়ি।
- কি চাস কি তোরা?
- তোর ব্যবসা বন্ধ করতে চাই।
- যদি না করি...
- এই তো সবে শুরু। আরও কত কেরামতি দেখাব। পুলিশ বাপবাপ করে পেছনে লাগবে। ভাবিস কি, চোদনামো কি তুই খালি একাই পারিস?
কথাগুলো বলে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না মিতা। মুখ ঘুরিয়ে হন হন করে বেরিয়ে গেল। এদিকে ইন্দিরার মাসী-মেসোও এসে জুটেছে। রে রে করে উঠলেন তারা। তারপর যেটুকু হওয়ার, 'কি রে কোথায় ছিলি? কি সব...'
ফেড আউট!
Darun laglo
ReplyDelete