Wednesday, 17 May 2017

মলয় ডাক্তার হয়েছে । দাঁতের ডাক্তার, ডেন্টিস্ট । ছেলেবেলা থেকেই বিজ্ঞান ছিল মলয়ের ফেভারিট । মাধ্যমিক পর্যন্ত ওর সখ ছিল ম্যাথমেটিশিয়ান হওয়ার । কারণ, অঙ্কটা ভালোই পারতো । পরে অবশ্য অঙ্ককে সাইড করে বায়োলজি আর কেমিস্ট্রিতে ঝোঁক বেড়ে ওঠে তার । স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর (অঙ্কে পণ্ডিত ছিল বলে 'স্মৃতিশক্তি' শব্দটি ব্যবহার করছি, ইতিহাসে পণ্ডিত হলে বলতাম 'মুখস্থ বিদ্যা') । পর্যায় সারণির মৌলগুলির পারমাণবিক গুরুত্ব থেকে মানুষের ২০৬টি হাড়ের নাম, সবই ছিল তার নখদর্পণে । জয়েন্টে ব্যর্থ হলেও, ডাক্তার হওয়ার ভুতটা ততদিনে রীতিমতো চেপে বসেছিল । অবশেষে নামকরা ইন্সটিটিউট থেকে বিডিএস এবং ডিএমডি পাস করে । প্র্যাকটিস শুরু করেছে এই কয়েক মাস হল ।
গত সপ্তাহে দীপু গিয়েছিল মলয়ের কাছে, দাঁত তুললে । দীপুও আমাদের সহপাঠী । বরাবরের ফার্স্ট বয় । ইংরেজি আর ভূগোলে দীপুর চেয়ে বড় পণ্ডিত আর কেও ছিল বলে খেয়াল নেই । বিজ্ঞান বা অঙ্কেও কিছু কম পাণ্ডিত্য ছিল না তার - ফার্স্ট বয়রা যেমন হয়ে থাকে । কিন্তু মলয়ের সাথে অঙ্কে কোনওদিন পেরে ওঠেনি দীপু । তাই পারে ! মলয় ছিল যাদুকর - দুদণ্ড দেখেই নিমেষে অঙ্ক নামিয়ে দিত । যেমন সংক্ষিপ্ত, তেমনই সহজবোধ্য । অন্যদিকে দীপুর অঙ্কগুলো ছিল লেনদি এবং বিরক্তিকর । কিছু কিছু অ্যালজেব্রার অঙ্ক তো ছোটোখাটো রচনার রূপ নিতো । এই নিয়ে কি আর মলয়ের সাথে পেরে ওঠা যায় ! তবুও কোনোদিন মলয়ের কাছে হার মানেনি দীপু । বরঞ্চ তার অঙ্কের সমালোচনা হলে মলয়কে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতো , '...যেভাবেই হোক, যত বড়োই হোক, যত জটিলই হোক, যুক্তি মেনে ঠিক পদ্ধতিতে অঙ্ক করলেই হল । এভাবেই করে এসেছি, সারাজীবনও করবো...।' সেই মুহূর্তে পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো কোনও কথা খুঁজে পেত না মলয় ।
কিন্তু এবার পেয়েছে । প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্টে সামান্য কিছু টেস্ট, এক্স-রে ইত্যাদির সাথে স্কুলজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করেই বন্ধুকে বিদায় দিল মলয় । দ্বিতীয় দিনটিকে বেছে নিল বহুদিনের জমানো উচিৎ শিক্ষাটা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ হিসেবে। সেদিন দীপু আসতেই তাকে সোজা অপারেটরিতে নিয়ে গেল মলয় ।
মলয় - চল, চেয়ারটায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড় । 
দীপু - (হকচকিয়ে গিয়ে) কেন ? উপুড় হয়ে কেন ?
মলয় - দাঁতটা তুলবো যে...
দীপু - (শুকনো হাসি হেসে) এই দেখ ফাজলামো মারিস না ! দাঁতটা কি পেছন দিক থেকে বের করবি ?
মলয় - (অসম্ভব স্বাভাবিক গলায়) হ্যাঁ...যেভাবেই হোক, যে পথেই হোক আর যত জটিলই হোক, ঠিকঠাক নিয়ম মেনে বের করলেই তো হল...



যাই হোক, এই ঘটনার পর আমাদের আরেক বন্ধু সুপ্রিয় মলয়ের কাছে তার বাবার অ্যাপয়েন্টমেন্টটা ক্যানসেল করে দেয় । সুপ্রিয়র বাবা আগাপাছতলা সিপিএমের সমর্থক । স্কুলে সুপ্রিয় বারবার একঘেয়েমি একটি কথা বলতো । তার বাবার কথা । তিনি নাকি বলতেন, সব সমস্যার সমাধান হল কাস্তে-হাতুড়ি...

No comments:

Post a Comment