বৌকে এই অবস্থায় দেখতে পাবেন, মোটেই আশা করেননি বিপদবাবু। রাত ঠিক সাড়ে নটার সময় দোকান বন্ধ করে বাড়িমুখো হন। ফেরার পথে হামেশাই এর-ওর সাথে দেখা হয়। সারাদিনের ধকল হালকা করতে মিনিট পনেরোর সংযমী আড্ডায় যোগ দেন - দিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সেই দশটা, সোয়া দশটা বেজে যায়। এই তার রোজকার রুটিন। কিন্তু আজ শরীরটা কেমন কেমন করায়, একটু জলদিই দোকান বন্ধ করে দিলেন। ফেরার পথে এর-ওরদের সামনে না পড়তে হয়, তাই ফাঁকা গলি ধরলেন। তবে গিন্নির খোশামোদে রতনের দোকান থেকে খান দশেক রসগোল্লা কিনে নিয়ে যেতে ভুললেন না। গেঁজেপাড়ার সাঁকো পেরিয়ে বেনেতলার বাড়িমুখো সোজা গলিটি বেশ সুনসান থাকে। তবে আজ নেই। দুজন বেহায়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফষ্টিনষ্টি করছে। ছোকরা-ছুরি হলে না হয় এক ধমক বসাতেন, কিন্তু এরা তো রীতিমতো প্রাপ্তবয়স্ক। কি আর করা যাবে, 'ঘোর কলি' আওড়ে এগিয়ে যেতে হল বিপদবাবুকে। কিন্তু খানিক এগিয়েই ভূত দেখলেন তিনি। পিলে চমকে উঠল মহিলাটি কে বুঝতে পেরে। এ মহিলাকেই তো তিনি শ্বশুরের দশভরী সোনা মেরে ঘরের বৌ করে এনেছিলেন। আহা, বুঝলেন, সন্ধ্যেয় গিন্নি কেন ফোন করে বলল, 'তরিতরকারি নেই। আজ মিষ্টি দিয়েই রুটি খেতে হবে।' মন ভেঙে গেল বিপদবাবুর। দু'চোখে অন্ধকার দেখলেন। একের পর এক, মেয়ের কথা, ছেলের কথা, পাড়াপড়শির কথা, আত্মীয়স্বজনদের কথা, বন্ধুবান্ধবদের কথা, এমনকি দোকানের কর্মচারীদের কথা খেয়াল করে বাচ্চা ছেলেদের মতো হাত-পা ছুড়ে কাঁদতে ইচ্ছে হল তার। এই খেল খেলাচ্ছে আমার বৌ। ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেলে তারা কি ভাববে, কি বলবে। বা হয়তো জেনেই বসে আছে অনেকে - লজ্জায় চুপ করে আছে। এই ছোট্ট মফঃস্বলে এসব কেচ্ছায় ওয়াকিবহাল থাকা এমন কিছু না। এতদিনে বুঝলেন নিজেদের ধাড়ি মেয়েটা বেলেল্লাপনার গুনগুলো কার কাছ থেকে পেয়েছে। ছেলেটাও কার জন্য দিনদিন ফাজিল হচ্ছে। মাথা ভার হয়ে এল। না আর না। জীবনটাকে শেষ করে দেবেন তিনি। এটাই একমাত্র চরম শাস্তি দেওয়া হবে স্ত্রীকে। মাথা হেঁট করে সাইকেল ঘোরালেন। গেঁজেপাড়ার সাঁকো থেকে ঝাঁপ দেওয়াই ঠিক হবে। সাঁকোটি বেশ উঁচু। নিচে কাদার গাদ। ওখানে ঝাঁপ দিলে আর দেখতে হবে না। এই রাতে লোক আসতে আসতে পগার পার। কিন্তু একটা সুইসাইড নোট লিখে গেলে ভালো হতো না! আসল জনকে দায়ী না করে গেলে যে সুইসাইড করাটাই ভেস্তে যাবে। কিন্তু লিখবেন কোথায়? মেয়েকে ফোন করে বলে দিলেই হয়। তাই ফোন লাগালেন মেয়েকে - বিজি! সারাদিনই বিজি! থাক, তাহলে মেসেজ করে রাখাটাই ভালো। সাঁকো যাওয়ার আগে গলির মুখেই সাইকেল দাঁড় করালনে। তালা দিলেন। এখানেই সাইকেল, মোবাইল, মানি-ব্যাগ আর রসগোল্লার ভাঁড়টি রেখে যাবেন। তার আগে এই ওই বলে, দু'চার কথা মেসেজ করে দিলেন মেয়েকে। দায়ী করে গেলেন তস্য গুনধারী মা'কে। ঠিক করলেন, আর বেশি কিছু ভাববেন না, মত পাল্টে লাভ নেই। শেষবারের মতো মুখ ঘুরিয়ে দেখে নিলেন। যাঃ! দুই শালিক তো হাওয়া। মাগি যাবে এবার বাড়ি গিয়ে মরাকান্না জুড়তে। দেরি করলে চলবে না। চটপট পা চালালেন বিপদবাবু। ফোনটা যেন বেজে উঠল। মেয়ে মেসেজ দেখে হয়তো ফোন করছে। চুলোয় যাক। সাঁকোটা কাছেই। মানুষজনও নেই। কাম সারতে ঝামেলা হবে না। ন্যাংটো হয়ে ঝাঁপ দেবেন কি না একবার ভাবলেন। না থাক, লোককে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আধো আলোতে সাঁকোর উপর থেকে একবার তলানিতে উঁকি দিলেন। অন্ধকার হলেও ভালোই বোঝা যাচ্ছে একটি লাল পেড়ে হলুদ শাড়ি জড়ানো আস্ত দেহ ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে কালশিটে কাদার গাদে। গেল বছর পুজোতেই তো এই শাড়িটি কিনে এনে দিয়েছিলেন।
Good
ReplyDelete