Sunday, 27 November 2022

২৭শে নভেম্বর ২০২২, রবিবার

আজ কবি কুসুমকুমারী দাশ মারা গেলেন। মাসউদ আহমাদের 'কাঞ্চনফুলের কবি'র ২০তম সংখ্যায়। শোকস্তব্ধ জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশের কাছে ক্ষতিটি অপূরণীয়। কেবল কবিতা চর্চার অনুপ্রেরণা হিসেবেই নয়, 'জীবনের প্রতিটি বাঁকে, সুখে ও বিরহে' কুসুমকুমারী ছিলেন 'তাঁর শ্রেষ্ঠ অবলম্বন'। 'বন্ধু-মনোভাবাপন্ন ও স্নেহময়ী মা' সন্তানকে 'জীবন ও পরিপার্শ্ব কী ভাবে দেখতে হয়, সংসারে মানুষকে কেমন করে অনুভব ও আয়ত্ত করতে হয়' সবই শিখিয়েছিলেন। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনানন্দের সংসারে স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সকলেই আছে, ভাই-বোনেরাও আছে সাথে পাশে, তবুও মায়ের চলে যাওয়ার যন্ত্রণাটা কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। বৃষ্টিস্নাত শীতের রাতে (কেওড়াতলা) শ্মশানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ছেন। চোখে জল নিয়ে ঠাঁই দাড়িয়ে থাকছেন। ভাবছেন মায়ের কথা। বাবার কথা?

ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের পাণ্ডব গোয়েন্দার কোনো গল্পই পূর্বে আমি পড়িনি। ভবিষ্যতে আর পড়তেও চাই না। আনন্দমেলায় এগারো মাস ধরে চলা শিরোনামহীন এক পাণ্ডব গোয়েন্দা কাহিনি আজই পড়ে শেষ করলাম। এক কথায় বললে, তৃতীয় শ্রেণীর (পড়ুন থার্ড ক্লাস) লেখা। অশীতিপর বৃদ্ধ হরিদ্বার তীর্থ সেরে ভ্রমণকাহিনী লিখতে চেয়েছিলেন, হয়তো। 'দেশ' পাত্তা দেয়নি। তাই 'পাণ্ডব গোয়েন্দা'কে অবলম্বন করে আনন্দমেলার পাঠকদের বারোটা বাজান। এনিড ব্ল্যাইটনের ভূত দেখা দেবে মিনসেকে। কারণ, সাহিত্যের বিচারে কদর্য তো অবশ্যই, আদর্শগত দিক থেকেও পশ্চাদগামী - সংরক্ষণশীল, পুরুষতান্ত্রিক, মধ্যযুগীয় চিন্তাধারায় ভর্তি। সঙ্গমে স্নানের প্রস্তাবের উত্তরে পাণ্ডবপ্রধান বাবলুর আড়ালে লেখক তাঁর মানসিকতা স্পষ্ট করে দেন - "বিলু ভোম্বলকে নিয়ে সঙ্গমেই যাব। মেয়েরা বরং ঘরেই থাকুক।' বাচ্চু, বিচ্ছু ছাড়াও একাধিক নারীচরিত্রকে কাহিনিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা দিয়েছেন ঠিকই - তাদের অনেকে আবার চারিত্রিক দৃঢতা এবং অসম সাহসিকতার সফল ও ব্যর্থ দুই'ই দৃষ্টান্ত রেখেছে - কিন্তু সকলকেই (এমনকি দুর্ভাগ্যজনকভাবে খুদে বালিকা পাঠকাদেরও) পদে পদে লেখক (বাবলু মারফৎ) বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা দ্বিতীয় লিঙ্গের বেশি কিছু নয়। মুখাপেক্ষী, আজ্ঞানুবর্তী, অধীন। কাহিনির ধারাবাহিকতাও নিম্ন মানের। এমন কোনো সংখ্যা (মোট ২২ টি) যায়নি যেখানে চা খাওয়ার উল্লেখ নেই। সুযোগ পেলেই চায়ের ব্যবস্থা। নিরর্থক অনাবশ্যক খুঁটিনাটিতে ভরে দায়সারাভাবে তাড়াহুড়োতে শেষ করা হয়েছে কাহিনি - যদিও তাতে পাঠককুলের মঙ্গলই হয়েছে।

এর চেয়ে ঢের ভালো মাত্র ১২টা সংখ্যাতেই শেষ রুপম চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসিকা 'অশ্বারোহী ঈশ্বর'। রহস্য-রোমাঞ্চ-ইতিহাস-কৌতুক মিশিয়ে আদিবাসী গোষ্ঠীর কিংবদন্তি দেবতা খারমুনকে প্রেক্ষাপটে রেখে লেখা এই কাহিনি যথেষ্ট উপভোগ্য। যদিও এটিও অনেকটা তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হল বলে আমার মনে হয়। দেখা যাক পরবর্তী আনন্দমেলা সংখ্যায় নতুন কি বা কি কি ধারাবাহিক শুরু হয়।

No comments:

Post a Comment