Monday, 28 November 2022

২৮শে নভেম্বর ২০২২, সোমবার

স্কুলে, স্মৃতি যতখানি মদত দেয়, পড়েছিলাম অ্যানি বেসান্ত এবং বাল গঙ্গাধর তিলকের উদ্যোগে ভারতবর্ষে হোমরুল আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তদানীন্তন রাজনৈতিক মঞ্চে গান্ধীজির আবির্ভাবের পূর্বেকার ঘটনা। ধারণা জন্মায় এবং সেটি এতদিন অবধি বহালও থাকে, যে তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় 'হোম রুল লীগ' প্রতিষ্ঠা হয় এবং আন্দোলনের পুরোভাগে তাঁরা একত্রে নেতৃত্ব দেন। ধারণাটি ভুল। প্রথমত তিলক ছিলেন চরমপন্থী নেতা, অন্যদিকে বেসান্ত প্রতিনিধিত্ব করতেন নরমপন্থীদের। তিলক যেখানে চরমপন্থার ক্ষিপ্রতায় লাগাম টানতে ব্রিটিশ শাসন পরিবর্জনের পরিকল্পনা ত্যাগ করে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সম্মেলনের ডাক দেন, বেসান্ত সেখানে নরমপন্থার আবেদন-নিবেদন নীতিতে বিরতি এনে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সম্মেলন শুরু করেন (তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস ছিল নিজস্ব জন্মভুমি আয়ারল্যান্ডের স্থানীয় হোম রুল আন্দোলন)। ঘটনাক্রমে দুই সম্মেলনই ঘটে একই বছরের (১৯১৫) একই মাসে (ডিসেম্বর) - কেবলমাত্র সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে। স্থানের ব্যবধানও সামান্য - তিলকের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় পুনায়, বেসান্তের বোম্বাইয়ে। আন্দাজ করা যায়, তিলক এবং বেসান্ত একে অপরের কর্মকাণ্ডে যথেষ্ট রূপে ওয়াকিবহাল ছিলেন (এমনকি একদা গোপালকৃষ্ণ গোখলের সাথে পরামর্শ করে বেসান্ত তিলককে নরমপন্থায় নিয়ে আসার ব্যর্থ প্রচেষ্টাও চালিয়েছিলেন)। হোম রুল লীগের নামকরনের ক্ষেত্রে দুই প্রতিনিধির প্রতিযোগিতা (যদিও গঠনমূলক) জনসমক্ষে স্পষ্ট হয়ে ওঠে - তিলক লীগের নামের আগে 'ভারতীয়' শব্দটি জুড়ে দেন; মাস কয়েক পর বেসান্ত নিজের লীগের নামের আগে যোগ করে দেন 'সর্বভারতীয়' শব্দটি। বলাই বাহুল্য, দুই লীগকেই ব্রিটিশ সরকারের সমান অসন্তোষ এবং তজ্জনিত সমান প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয়।

No comments:

Post a Comment