১৯৯৬ সালে সৌরভ গাঙ্গুলীর ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির পর মুম্বাই এবং দক্ষিণী লবির সাংবাদিকরা গেল গেল রব তুলেছিল, যে কেন ভি ভি এস লক্ষণ এর মতো প্রতিভাবান প্লেয়ার থাকতে একে দলে ঢোকানো হল? বাঁ হাতিই যদি নিতে হয় তাহলে অভিজ্ঞ ডব্লিউ ভি রমনকেই আবার ডাকা যেত। তখন ভারতীয় বোর্ডের কিছু বাঘা কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করে দিয়ে বলেছিলেন - আরে বহুদিন ধরে বেঙ্গল থেকে কোন প্লেয়ার নেওয়া হয় না, বোর্ড নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কোটা হিসাবে একজনকে নেওয়া হয়েছে আর নিলেই কি খেলাতে হবে নাকি? স্বয়ং আজাহার নির্বাচনী সভায় সৌরভের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে তুলকালাম করেছিলেন। কিন্তু গত দুই বছরে গাঙ্গুলীর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আর সম্বরণ ব্যানার্জির উপস্থিত বুদ্ধি, গলার জোর, মেরুদন্ড শক্ত করে থাকা সব মিলিয়ে মিশিয়ে সৌরভ ভারতীয় দলে ঢুকে পড়েন। তারসঙ্গে ১৯৯৬ এর বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের খারাপ পারফরম্যান্স, ইডেন বিতর্ক, আজাহার সঙ্গীত বিজলানী কেচ্ছা সবকিছুই একটা অনুঘটকের কাজ করেছিল। ইংল্যাণ্ডের দল ঘোষণা হওয়ার পরে সৌরভকে নিয়ে প্রথম বিদ্রুপটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন গাভাস্কার - "ও তো কলকাত্তা কা রসগুল্লা হ্যায়" রবি শাস্ত্রী সরাসরিই বলেছিলেন - "কোটার মাল"। আসলে এরা সবচেয়ে ভাল ওয়াকিবহাল ছিলেন সৌরভের ক্ষমতা সম্পর্কে। তাই সৌরভ গাঙ্গুলীর ভবিষ্যৎ মহীরুহ হওয়ার সম্ভাবনাকে অচিরেই শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। নির্বাচন কমিটির বৈঠকের পরে প্রবল বাঙালি বিদ্বেষী নির্বাচক সন্দীপ পাটিল ব্যাঙ্গ করে বলেছিলেন - "আজ সম্বরণ আমাদের খাওয়াবে। সৌরভকে শেষ পর্যন্ত ও দলে ঢুকিয়েই ছাড়ল" ব্যাপারটা এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায় যে মধ্যাঞ্চলের নির্বাচক গোপাল শর্মা চিৎকার করে বলতে বাধ্য হন - "শাট আপ স্যান্ডি! সমস্ত কিছুর একটা সীমা আছে।" উত্তরে সম্বরণ ব্যানার্জি হেসে বলেছিলেন - "তোমাদের তুলনায় এই বাঙালিরা একটু গরীব, কিন্তু নিশ্চই খাওয়াবো। তবে সৌরভকে দলে ঢোকাতে পারলাম বলে নয়, ভারতীয় দলকে সৌরভের মতো একটা ক্রিকেটার দিতে পারলাম বলে। "আসলে সম্বরণ ব্যানার্জি নিজেই তো একজন বঞ্চিত তারকা। একটা সময়ে সৈয়দ কিরমানির পরেই দ্বিতীয় সেরা ভারতীয় উইকেট রক্ষক হিসাবে সম্বরণ ব্যানার্জির নামই আসতো। ভারতীয় A দল, অবশিষ্ট ভারতীয় একাদশ, বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশ, পূর্বাঞ্চল, বাংলা দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নজরকাড়া সাফল্য ছিল সম্বরনের। কিন্তু তিনি যেহেতু সিং, শর্মা, যাদব বা আইয়ার হয়ে নির্ভেজাল বন্দোপাধ্যায়, তাই ভারতীয় টেস্ট দলের দরজা চিরকাল তার মুখের ওপরে বন্ধই ছিল। নিজের ক্রিকেট জীবনের সেরা সময়ে পড়ন্ত বেলার কিরমানির ছায়ায় ঢাকা ছিলেন। কিরমানির অবসরের পরে বহুবার দল নির্বাচনী টেবিলে তার নাম আলোচিত হলেও রাজ সিং দুংগাপুর, নিরঞ্জন শাহদের মতো নেপথ্য মহপুরুষদের কৃপায় বারবার তার নাম খারিজ হয়ে যায়। একবুক যন্ত্রনা নিয়ে দেখেছেন তাঁকে ব্রাত্য রেখে যোগ্যতায় তার চেয়ে ধারে এবং ভরে বহু যোজন দূরে থাকা দ্বিতীয় শ্রেণীর উইকেট কিপার চন্দ্রকান্ত পন্ডিত অথবা সদানন্দ বিশ্বনাথ স্রেফ দক্ষিণী লবির জোরে টেস্ট দলে জায়গা পেয়ে গেছে। নিজের ওপর হওয়া অবিচারের শোধ সম্বরন সুদে আসলে তুলে ছিলেন স্রোতের বিরুদ্ধে সৌরভকে ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করিয়ে। পরে ভারতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রেই না থাকা ওড়িশা থেকে শিবসুন্দর দাস, দেবাশীষ মোহান্তি এবং সঞ্জয় রাউলও জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন লড়াকু সম্বরনের জন্যে।
১৯৯৬ এর ইংল্যান্ড সফরে সৌরভের কেরিয়ার চিরকালের মতো শেষ করে দেওয়ার ব্লু প্রিন্ট ফ্লাইটে বসেই বানিয়ে ফেলেছিলেন আজাহার আর পাটিল। হোটেলে চেক ইন করার পরে আজাহার সৌরভকে বলেছিলেন - "ভালো করে ইংল্যান্ড ঘোর, বাজার কর , আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করো", মানে ভুলেও ক্রিকেট খেলার বা দলে জায়গা পাওয়ার কথা মনে স্থান দিও না। প্লেয়ারদের ফিডব্যাক রিপোর্টে সৌরভ সম্পর্কে ভয়ংকর সব অভিযোগ করেছিলেন পাটিল। পাটিল জানতেন ১৯৯২ সালে সৌরভ যখন ভারতীয় দলে প্রথম নির্বাচিত হন তখন তার নাম শ্রীকান্ত, শাস্ত্রী সহ বেশ কিছু প্লেয়ার অভিযোগ করেছিলেন সৌরভ নাকি উদ্ধত এবং তাদেরকে সিনিয়র ক্রিকেটার হিসাবে সম্মান করেন না। যেটা সৌরভ পরে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ বলেছিলেন। সেটাকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করলেন পাটিল। রিপোর্টে লিখলেন "সৌরভ টিমম্যান নন, ম্যাচের আগে কারোর সাথে কথা বলেননা, একা একা ঘুরঘুর করেন।" এখানে আমরা নিজেরা যারা খেলাধুলা অল্পবিস্তর করি তারা একটা কথা বলতে চাই যে, খেলাধুলায় চূড়ান্ত ক্ষেত্রে নামার আগে মনোসংযোগ বলে একটা কথা আছে। আমরা নিজেরাও টুর্নামেন্টে ফাইট করার একদিন আগে থেকে কথাবার্তা কম বলি, খেলাটা নিয়ে, প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করি, একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করি। ফাইট শুরুর আগে এককোনে চেয়ার টেনে নিয়ে চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকি, গেম রিড করি। এগুলোর সাথে ঔদ্ধত্বের কোন সম্পর্কই নেই। আমার মতো দু চার আনার অজ্ঞাতকুলশীল স্পোর্টসম্যান যে জিনিসটা জানে সেটা সন্দীপ পাটিলের মতো বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ কি জানেন না? কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে বিনোদ কাম্বলীর রাস্তা পরিষ্কার রাখার জন্যে পাটিলরা ওই কাজ করেছিলেন। আজহারের সাথে সিধুর ইগোর লড়াই চরমে পৌঁছে সিধু মাঝপথে সফর ছেড়ে চলে এলেও সৌরভের নাম ভাবা হয়নি। ঠিক ছিল রাহুল দ্রাবিড় আর বিক্রম রাঠোর এর নাম। কিন্তু এরপরে প্র্যাকটিসে সুনীল জোশির আঙুল ভাঙ্গায় কোনভাবেই উপায় না দেখে সৌরভকে খেলাতে বাধ্য হয় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। লর্ডসের স্যাঁতস্যাঁতে পিচে সৌরভকে ওয়ান ডাউনে ঠেলে দেন পাটিল-আজাহার জুটি। উদ্দেশ্য পরিষ্কার সৌরভ ডমিনিক কর্ক আর অ্যালেন মুলালির বিষাক্ত সুইং এর সামনে খাবি খেয়ে অল্প রানে আউট হবেন আর তারপরেই ওৎ পেতে থাকা মুম্বাই আর দক্ষিণী মিডিয়ার সাহায্যে শেয়ালের চিৎকার করে সৌরভ অযোগ্য এই বলে সৌরভের ক্যারিয়ার জন্মের মতো শেষ করে দেওয়া হবে। সঙ্গ দেওয়ার জন্যে মাত্রাতিরিক্ত উদার, খাঁটি ভারতীয় বাঙালী কাঁকড়ারা তো আছেই। লর্ডসে সৌরভ কি করেছিলেন সেটা বিশ্বক্রিকেটের রূপকথায় ঢুকে গেছে। কিন্তু যদি তিনি শূন্য রানে আউট হতেন তাহলে কি হত? দিলীপ বেঙ্গসরকার ১৬ টা টেস্ট খেলার পরে জীবনের প্রথম হাফ সেঞ্চুরী করেছিলেন, যে গাভাসকার প্রথম তিনটে টেস্টে ৭০০ রান করেছিলেন সেই গাভাস্কারের ১০০০ হাজার টেস্ট রান পুরো করতে ১২ টা টেস্ট লেগেছিল। সৌরভ পেতেন এতগুলো সুযোগ? রোহিত শর্মা পরপর নয়টা ম্যাচে দুই অংকের স্কোরে পৌঁছাতে পারেননি। তবুও দশ নম্বর ম্যাচটা খেলার সুযোগ কেন পায় জানেন কারন ঠিক সেই সময়েই মহারাষ্ট্রের মিডিয়া আর কর্মকর্তারা খাঁটি ভারতীয় থেকে খাঁটি মুম্বাইয়া হয়ে যায়। এদের জন্যেই শচীন, লক্ষণ, দ্রাবিড় সৌরভের সমসাময়িক হয়েও কেউ ২০১২ কেউ ২০১৩ আবার কেউ ২০১৪ তে অবসর নিতে পারেন আর ফর্মের শিখরে থাকা সৌরভকে অকাল অবসর নিতে বাধ্য করা হয় ২০০৮ সালে। চ্যাপেল কান্ডে সারা ভারতের ক্রিকেটপ্রেমী সৌরভের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল আর ভারতীয় বোর্ড ছিল সৌরভের বিপক্ষে। কিন্তু তখনও কিছু অতিরিক্ত ক্রিকেটবোদ্ধা, সর্বভারতীয় লিবারেল বাঙালি কাঁকড়া মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ ভারতীয় লবির সাথে গলা মিলিয়ে সৌরভ কত খারাপ এবং রাহুল দ্রাবিড় অধিনায়ক এবং ক্রিকেটার হিসাবে কত উচ্চমানের সেই প্রচারে ব্যস্ত ছিল।
সারা জীবনে অদ্ভুত অদ্ভুত সব অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে বেঙ্গল টাইগারকে। প্রথমে বলা হত ক্রিকেটই খেলতে পারেন না, লর্ডসের পরে নতুন গান শুরু হল টেস্টে মোটামুটি চললেও ওয়ানডে এর দ্বারা হবে না। টরন্টোতে একটা ম্যাচে কুম্বলেরও পরে আট নম্বরে সৌরভকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন পাটিল। খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সাকুল্যে আটটা বল। ১২ রানে নট আউট ছিলেন। তারমধ্যেই ওয়াসিম আক্রমের একটা ব্যানানা ইনসুইঙ্গারকে স্ট্রেট ড্রাইভে বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছিলেন, শটটা আজও চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে। পরের ম্যাচেই বাদ পড়েছিলেন। সেইজন্য নিজের দশহাজার ওয়ানডে রান পূর্ন করার পরে একটা দুর্দান্ত স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন, তখন চ্যাপেল, মোড়ে দুই জোড়া ফলা দিয়ে সৌরভকে ছিন্নভিন্ন করছেন শরদ পাওয়ার। অধিনায়কত্ব পাওয়ার লোভে জেন্টেলম্যান রাহুল দ্রাবিড় তখন নগ্ন ব্রুটাস। সেই সময়ে দশ হাজার রান পূর্ন করে সংবাদিকদের বলেছিলেন - "জীবনের প্রথম ওয়ান ডে রানটা করার পরে জানতাম না পরের ম্যাচে দলে থাকবো কিনা। আজ দশ হাজার ওয়ান ডে রান করার পরেও জানিনা পরের ম্যাচে জায়গা থাকবে কিনা।"
খুব ভালো সিঙ্গেলস জাজ করতে পারতেন সৌরভ, সেইজন্যে অতিরিক্ত বাহাদুরি দেখাতে গিয়ে নির্বোধের মতো রান আউট হতেন না এটাকে একশ্রেণীর মিডিয়া প্রচার করতো সৌরভ রান নিতে পারেন না। ঘোড়াতেও হাসবে শুনলে। শচীন, লক্ষণ ক্যাচ ফেললে ওটা ক্রিকেটেরই অঙ্গ কিন্তু সৌরভের একটা মিসফিল্ড হলেই খাঁটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ক্রিকেটপ্রেমী বাঙালি কাঁকড়াগুলো গেল গেল রব তুলেছে। অথচ সৌরভের মতো উচুঁ ক্যাচ ধরার দক্ষতা অতীত বর্তমান মিলিয়েও কোন ভারতীয় ক্রিকেটারের নেই। ফ্লাড লাইটের ওপরে চলে যাওয়া ক্যাচগুলো কি অসাধারন দক্ষতায় তালুবন্দী করতেন। ক্লোজ ইন ফিল্ডার হিসাবেও দুর্দান্ত ছিলেন। সবচেয়ে হাস্যকর অভিযোগ ছিল গাঙ্গুলী জোরে বল খেলতে পারে না। আঠেরো হাজার রান শুধুই স্পিনের বিরুদ্ধে এসেছে? কার্টেলে অ্যামব্রস, ওয়াসিম আক্রম, চামুন্ডা ব্যাস, আকিব জাভেদ, ড্যারেন গফ, ডোনাল্ড, পোলক, ব্রেট লি-রা ঠ্যাঙানি খায়নি দাদার হাতে? শোয়েব আখতারের বল বুকে লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরেও হসপিটাল থেকে এসে দুরন্ত ৫৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওয়াকার ইউনুসের মার খাওয়ার কথা বললেই লোকে সচিনের কথা বা ১৯৯৬ বিশ্বকাপে জাদেজার কথা বলে। এর থেকেও ভয়ংকর মার ইউনুস সৌরভের হাতে খেয়েছিলেন ১৯৯৭ এ করাচির ওয়ান ডেতে। পাকিস্তান এর বিরুদ্ধে ভারতকে ধারাবাহিকভাবে জিততে শিখিয়ে ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। অফ সাইডের স্কোয়ার কাট আর কভার ড্রাইভ সর্বকালের সেরা। হিংসুকরা বলতো অন সাইডে খেলতে পারেন না। কতবড় নির্বোধ হলে এই কথাকে সমর্থন করা যায়। এতবড় দুর্বলতা নিয়ে ১২ বছর এই আকাশছোঁয়া সাফল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সম্ভব?
২০০৬ এর শেষদিকে সৌরভের কামব্যাক যখন নিশ্চিত। তখন কাছের লোকেরা বলেছিল - "এত তাড়াহুড়োর দরকার কি, এই সিরিজটার ওপরে সারা জীবনের ক্রিকেট কেরিয়ার দাঁড়িয়ে আছে। তোমাকে আতস কাচের নিচে ফেলে দেখছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব, কি দরকার দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রিনটপে গিয়ে স্টেইন, মর্কেল, অ্যান্তিনিদের মুখোমুখি হওয়ার? এরচেয়ে অনেক দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতে আসছে এরপরেই ওদের বিরুদ্ধে সহজ সিরিজে কামব্যাক করো।" উত্তরে দেওয়ালের কোনা থেকে ব্যাট তুলে উত্তেজিত ভাবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ। শ্যাডো করতে করতে জবাব দিয়েছিলেন - "এইভাবে কাপুরুষের মতো ক্রিকেট কেন কোন খেলাই হয় না, এইভাবে বাচঁতে শিখিনি, যার সত্যিকারের ক্ষমতা আছে সে স্থান আর প্রতিপক্ষ বিচার করে না। যদি ক্ষমতা থাকে তো ওখানেই কিছু করে দেখাবো।" কি করেছিলেন ইতিহাসে লেখা আছে।
২০০৩ সালে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন - রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসকে (শোয়েব আখতার) থামাবেন কি করে? মহারাজ উত্তর দিয়েছিলেন - কেন? চেন টেনে! সচিন সম্পর্কে কটাক্ষ করা শোয়েব আখতারও নিজের আত্মজীবনীতে সৌরভ সমন্ধে লিখেছেন - "শরীরটা মানুষের কিন্তু ভেতরের খাঁচাটা দৈত্যের।" শাহিদ আফ্রিদি বলেছেন - "ও বন্দাহি থোড়া অলগ হ্যায়" ক্রিস গেইল বলেছেন - "আইপিএল থেকে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সৌরভ গাঙ্গুলীর সাথে ওপেন করতে নামা , ওর মতো ম্যাচ রিডিং করতে আর কাউকে দেখিনি "। এঞ্জেলো ম্যাথুজ বলেছেন - "যে সৌরভকে সম্মান করতে পারেনা সে ক্রিকেটকে সম্মান করতে পারেনা। আইপিএল এ সৌরভের অধিনায়কত্বে খেলতে পেরে আমি গর্বিত।"
খেলোয়াড় জীবনে অসংখ্য সমস্যার সমাধান করেছেন একদম সামনে থেকে। ম্যাচ ফিক্সিং করে আজাহার-জাদেজারা ক্রিকেটকে ধর্ষণ করে সরে পড়ার পরে চাপ সামলাতে না পেরে ভদ্রলোক সচিনও যখন পালালেন তখন এক্কেবারে যাতা, অসংখ্য দোষে দুষ্ট গাঙ্গুলীর ঘাড়ে অধিনায়কত্বের বোঝা ফেলে নিশ্চিন্ত হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট। ২০০০ থেকে ২০০৮ সেরা ক্রিকেট খেলেছিল ভারত। এক সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটে ওপেনিং জুড়ি টিকত দুই থেকে পাঁচ ওভার। বলা হল গাঙ্গুলিকে ধরে ওপেনার বানিয়ে দেওয়া হোক। ঘরোয়া ক্রিকেটেও ওপেন না করা সাহসী সৌরভ নিজের কেরিয়ার বাজী রেখে ইনিংস শুরু করতে রাজি হয়ে যান। কচ্ছপের মতো ব্যাট করা দ্রাবিড়ের ওয়ান ডে ক্যারিয়ার বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন উইকেট কিপার হিসাবে খাড়া করে দিয়ে। শেহবাগকে বলেছিলেন ২৫ টা ম্যাচে শূন্য করলেও ২৬ নম্বর ম্যাচটা তুই খেলবি, যতক্ষন আমি অধিনায়ক হিসাবে আছি। ধোনিকে সুযোগ দিয়েছিলেন, ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলে এনেছিলেন।
শুধু নিজে কারোর কাছ থেকে কোন নিরাপত্তা বা সাহায্যের আশ্বাস পাননি। সবচেয়ে বড় দুটো ভুল করেছিলেন ২০০৩ ওয়ান্ডার্সে বিশ্বকাপ ফাইনালে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে আর তৎকালীন মন্ত্রী অশোক দাশগুপ্তের সাথে কথা বলে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান দিলীপ বেঙ্গসরকারকে ক্রিকেট একাডেমির জন্যে জমির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে। যেটা সম্ভব না হওয়ায় বেঙ্গসরকার অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডে টিম থেকে সৌরভকে ছাঁটাই করেন। মদত দেন ধোনি যিনি সৌরভের ব্যক্তিত্বের সামনে হীনমন্যতায় ভুগতেন। আর ছিলেন শ্রীনিবাসন ও গুরুনাথ মায়াপ্পন। শ্বশুর-জামাই আবার ম্যাচ গড়াপেটার ব্যবসা নতুন করে শুরু করেছিলেন। যেটা সৌরভের মতো একটা লোক থাকলে কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিল না। সেইজন্যেই হঠাৎ করে অবসর ঘোষণার পরে সৌরভ প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন - "আজ রাত্রে নিশ্চিন্তে ঘুমাবো।" কি আশ্চর্যের কথা, একজন ক্রিকেটার যে সারা জীবন শান্তিতে ক্রিকেটটাই খেলতে পারেননি। শ্রীনির জামাই অলরেডি হাজতবাস করেছেন। বাকিরা এই আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমএর মধ্যে একে তাকে ধরে বেঁচে গেছেন। খবর বেরোচ্ছে ভারতে ২০১১ বিশ্বকাপের বেশ কিছু ম্যাচ নাকি গড়াপেটা হয়েছিল। মুকুল মুদগল কমিটির আদালতের কাছে পেশ করা বন্ধ খামে যে কোন কোন রথী মহারথীর নাম আছে কে জানে।
শুধু নিজে কারোর কাছ থেকে কোন নিরাপত্তা বা সাহায্যের আশ্বাস পাননি। সবচেয়ে বড় দুটো ভুল করেছিলেন ২০০৩ ওয়ান্ডার্সে বিশ্বকাপ ফাইনালে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে আর তৎকালীন মন্ত্রী অশোক দাশগুপ্তের সাথে কথা বলে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান দিলীপ বেঙ্গসরকারকে ক্রিকেট একাডেমির জন্যে জমির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে। যেটা সম্ভব না হওয়ায় বেঙ্গসরকার অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডে টিম থেকে সৌরভকে ছাঁটাই করেন। মদত দেন ধোনি যিনি সৌরভের ব্যক্তিত্বের সামনে হীনমন্যতায় ভুগতেন। আর ছিলেন শ্রীনিবাসন ও গুরুনাথ মায়াপ্পন। শ্বশুর-জামাই আবার ম্যাচ গড়াপেটার ব্যবসা নতুন করে শুরু করেছিলেন। যেটা সৌরভের মতো একটা লোক থাকলে কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিল না। সেইজন্যেই হঠাৎ করে অবসর ঘোষণার পরে সৌরভ প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন - "আজ রাত্রে নিশ্চিন্তে ঘুমাবো।" কি আশ্চর্যের কথা, একজন ক্রিকেটার যে সারা জীবন শান্তিতে ক্রিকেটটাই খেলতে পারেননি। শ্রীনির জামাই অলরেডি হাজতবাস করেছেন। বাকিরা এই আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমএর মধ্যে একে তাকে ধরে বেঁচে গেছেন। খবর বেরোচ্ছে ভারতে ২০১১ বিশ্বকাপের বেশ কিছু ম্যাচ নাকি গড়াপেটা হয়েছিল। মুকুল মুদগল কমিটির আদালতের কাছে পেশ করা বন্ধ খামে যে কোন কোন রথী মহারথীর নাম আছে কে জানে।
আনন্দরূপ রায়
No comments:
Post a Comment