Friday, 9 June 2017

মে ২৪, ২০১৭

জীবন স্যারের কাছে শুনেছিলাম । নামটা যদিও পরে জেনেছি । ক্যামেরুন কাফি । কৃতিত্ব বলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাতীয় দলের পোশাকে ১৫ টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৪১ টি ওয়ান-ডে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন । শচীন তেন্ডুলকরকে বার তিনেক আউট করেছেন, এটিও কম বড় কথা নয় । এসবের বাইরেও তিনি একটি অভূতপূর্ব ঘটনার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন, সীমিত ওভারের ক্রিটেটের ইতিহাসে যা বিরল ।
জীবন স্যার ভূমিকাটা দিয়েছিলেন অনেকটা এইরকম, 'এমন কোনওদিন দেখেছিস একটি রান না করেও, একটি উইকেট না নিয়েও, এমনকি একটি ক্যাচ না ধরেও কেও ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছে ?'
২০০১ সালে কোকা-কোলা কাপের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জয়লাভের পর ক্যামেরুন কাফি ঠিক ওই ঢংয়েই ম্যান অফ দ্য ম্যাচের অ্যাওয়ার্ডটি পেয়েছিলেন । সে ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগই পাননি তিনি । এমনকি ১০ ওভারের স্পেল সম্পূর্ণ করেও একটি মাত্র উইকেটও সংগ্রহ করতে পারেননি । ক্যাচের সংখ্যাও শূন্য । তবে ?
৬ ফুট ৮ ইঞ্চি দীর্ঘ ডান হাতি বোলারটির বোলিং ফিগারটা দেখলে কিছুটা ধারণা করা যেতে পারে । ১০-২-২০-০ । ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৬৬ রান তাড়া করতে নেমে ২৩৯ রানেই থেমে যেতে হয় জিম্বাবোয়েকে । মারভ্যন ডিলন খান তিনেক উইকেট নিলেও, একমাত্র ক্যামেরুন কাফি ছাড়া কোনও বোলারই ৪.৮০ অপেক্ষা কম ইকোনমি রেট রাখতে সক্ষম হননি । তাই ২৭ রানের জয়টা নিঃসন্দেহে কাফিরই অবদান হয়ে দাঁড়ায় । এমনকি ড্যারেন গঙ্গা, ক্রিস গেইল এবং শিবনারায়ণ চন্দ্রপলের অর্ধশতরানও তার অবদানের কাছে ফিকে হয়ে যায় ।
যদিও অ্যান্ডি ব্লিগনটকে রান আউট করার কথাটা জীবন স্যার বলেছিলেন কি না খেয়াল নেই । সেই সময় ঝোড়ো ইনিংস খেলার সুবাদে অ্যান্ডি ব্লিগনটের চর্চা করেননি এরকম ক্রিকেট প্রেমী খুব কমই আছে । হয়তো অ্যান্ডি ব্লিগনটের চতুর্থ উইকেটটিই সেই ম্যাচের টারনিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়, যা সম্ভব হয় ক্যামেরুন কাফির সৌজন্যে ।

No comments:

Post a Comment