নিঃসন্দেহে আজ রাজ্য জুড়ে অনেক সাংস্কৃতিক মঞ্চের নাম রাখা হয়েছে 'কালিকাপ্রসাদ মঞ্চ' এবং নিঃসন্দেহে যারা এই নামটি নির্বাচন করেছেন, তথা যারা সমর্থনসহ বলেছেন, 'এর চেয়ে আর উপযুক্ত কিইবা হতে পারে !' তারা অজান্তেই, তা যতই সূক্ষ্ম হোক না কেন, কালিকাপ্রসাদের মৃত্যুকে আহ্লাদের অবকাশ হিসাবে ব্যবহার করেছেন । বিজ্ঞানসম্মতভাবে বললে, 'অভ্যাসগত প্রতিবর্তের হেতু মনুষ্য অবচেতনে, আরোপিত চাহিদা এবং তদুপযোগী উপস্থিত উপকরণের মিথষ্ক্রিয়াজাত' আহ্লাদ হল এই আহ্লাদ এবং এটি সম্পূর্ণ ভণ্ডামিমুক্ত নয় । গোদা বাংলায় বললে, কালিকাপ্রসাদের মৃত্যুতে এতদিন তাঁরা শোকাহত আত্মীয়ের ভূমিকা পালন করছিলেন, আজ তাঁরা খোল-করতাল নিয়ে কীর্তনিয়ার দলে যোগ দিয়েছেন । অথবা বলা যায় কাল ছিলেন রোগীর ঘরের লোক, আজ হয়েছেন ডাক্তার বা নেহাৎ কম্পাউন্ডার (শ্মশানের ডোম বলতে চেয়েছিলাম, দেখলাম সদ্য নির্বাপিত বর্ণাশ্রমের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি উস্কে দিয়ে লাভ নেই) । জবানবন্দিতে - 'কেও তো চায়নি যে মরে যান কিন্তু মরে গেলে কি আর করা যাবে !' অর্থাৎ তাঁরা অতটাও শোকস্তব্ধ নন যে বসন্তোৎসব পালিত হবে না, মঞ্চ দাঁড়াবে না, হবে না গান-নাচ-ফুর্তি । আনন্দ করে ঘরে ফিরেছেন অনেকক্ষণ হল, কিন্তু মঞ্চ ফাঁকা রয়ে গেল - কালিকাপ্রসাদের মঞ্চ ।
No comments:
Post a Comment