Sunday, 2 July 2017

২০১৬, ১৮ নভেম্বর

ভারতবর্ষে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২২,৫০০ লোক মরছে। এর মধ্যে সবই তো আর, 'বাবুজি কি উমর হো চুকী থী' টাইপের পাবলিক নয়; সুইসাইড, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, 'বড্ড ভালোমানুষ ছিলেন, কি থেকে কি হয়ে গেল' টাইপের অক্কা পাওয়া পাবলিকও আছে। আছে প্রচুর চাষাভুষো, মজুর, ভিখিরি, মাতব্বর, মাতাল। কেষ্টবিষ্টুরা বাদ! ব্যাস! যেকটা মালের জন-ধন অ্যাকাউন্ট আছে, লাগাও তকমা, 'ডিমনিটাইজেশান ডেথ টল' - ৫০০-১০০০ এর ভূত দেখেই যেন ফটো হয়েছে। মরার দুদিন আগে এটিএমের লাইনে দেখা পেলে তো আর কথাই নেই।

এই ধরনের কথা সত্যিই অসভ্যতা। মানুষ মরছে, এই নিয়ে ইয়ার্কি!

আসলে মানুষ যে মরছে, আর তার খবর যারা আপনার কাছে পেশ করছে তারাই আসল আড্ডাটা দিচ্ছে। ৫০০-১০০০ এর ফাঁপরে টসকে যাওয়াদের জন্য যারা মড়াকান্না কাঁদছে, তারা হচ্ছে পলিটিক্যাল মাদারি - আপনাকে বাঁদর বানিয়ে নাচাবে। বার্ড-ফ্লু বা ডেঙ্গুতে লোক মরলে তাদের কিছু যাই আসে না। ভূমিকম্পে কজন চাপা পড়ল, সে নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। কিন্তু কজন চাষা গলায় দড়ি দিল বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাকে গুম করে দেওয়া হল - দেখবেন ডেমনস্ট্রেশন! যে কোনও ইস্যুতে পলিটিক্যাল ইন্টারেস্ট থাকলেই হল - ন্যাংটো হয়ে রাস্তায় গড়াগড়ি খাবে। 'নেহি চলেঙ্গে! নেহি চলেঙ্গে!' তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে কি আর 'ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে - ইনশাল্লাহ! ইনশাল্লাহ!' তখন চুপ মেরে থাকাই ভালো!

তাই বলছি, রাস্তায় রাস্তায় টলি বা টোটো করে ঘোরা দানপেটি বা চাদরে সিক্কা ছুঁড়বেন না, যান, এই তো কয়েক পা গেলেই মন্দির-মসজিদ পেয়ে যাবেন।

No comments:

Post a Comment